মার‑এ‑লাগো রিসোর্টে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি একসাথে উপস্থিত হয়ে রুশ‑ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে চলমান আলোচনার অগ্রগতি জানালেন। দুই নেতা রিসোর্টের বহিরঙ্গনে সাংবাদিকদের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে বললেন, শীঘ্রই একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, বর্তমান আলোচনাগুলি এখনো শেষের দিকে পৌঁছেছে এবং যদি সমঝোতা না হয় তবে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, এমন একটি চুক্তি উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী হবে এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, উভয় দেশের জনগণ যুদ্ধ শেষ করতে চায় এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতারই এই ইচ্ছা সমান। তিনি এও উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা গ্যারান্টি সম্বলিত একটি শক্তিশালী চুক্তি তৈরি করা হবে, যাতে ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষা পাবে এবং একই সঙ্গে ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোও শক্তিশালী হবে।
মিটিংয়ের আগে রাশিয়া কিয়েভের ওপর আক্রমণ তীব্রতর করে, যা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও জেলেনস্কি দুজনই জোর দেন, এখনই শান্তি চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া জরুরি।
জেলেনস্কি ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, তারা ভূখণ্ডগত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করবে, যা ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘদিনের লাল রেখা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি জানান, উভয় পক্ষের আলোচকরা ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়ে শান্তি প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার পরিকল্পনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মতোই নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই গ্যারান্টি ইউক্রেনকে ভবিষ্যতে রাশিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তৈরি।
জেলেনস্কি আরও প্রকাশ করেন, যদি ইউক্রেনকে ন্যাটোর মতোই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তবে তিনি দেশের ন্যাটো সদস্যপদ প্রার্থনা স্থগিত করতে প্রস্তুত। এই অবস্থান ইউক্রেনের নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক মিত্রতার মধ্যে নতুন সমন্বয় নির্দেশ করে।
প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, যা নিরাপত্তা গ্যারান্টি বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা নিশ্চিত করবে। ট্রাম্পের মতে, দুই পক্ষই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করেও জানান, আলোচনাগুলি দ্রুত অগ্রসর হবে এবং শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা হবে যা সকলের স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মানবিক ক্ষতি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
এই সাক্ষাৎ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে রাশিয়া‑ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য নেওয়া বহু উদ্যোগের একটি অংশ। তিনি পূর্বে জেলেনস্কি ও পুতিন উভয়ের সঙ্গে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পরেও শান্তি প্রক্রিয়াকে অগ্রসর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মিটিংয়ের পর উভয় দেশই জানিয়েছে, পরবর্তী আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া যদি সফল হয়, তবে চার বছর ধরে চলমান সংঘর্ষের সমাপ্তি সম্ভব হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



