22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি তরিকের প্রার্থী পর্যালোচনা, ১৭টি আসনে পুনর্বিবেচনা নির্দেশ

বিএনপি তরিকের প্রার্থী পর্যালোচনা, ১৭টি আসনে পুনর্বিবেচনা নির্দেশ

বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমান গতকাল গুলশানের পার্টি চেয়ারম্যানের অফিসে এসে পার্টি প্রার্থীদের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করেন এবং ১৭টি নির্বাচনী আসনে মনোনয়ন পুনরায় বিবেচনা করার নির্দেশ দেন।

প্রধান অফিসটি গুলশান রোড ৮৮ নম্বরের স্বাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত, যা ২০০৮ সাল থেকে চেয়ারম্যানের কাজের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তরিক ১:৪০ অপরাহ্নে অফিসে পৌঁছে ১০:২৮ রাতের কাছাকাছি এভারকেয়ার হাসপাতাল, বসুন্ধরায় তার অস্বাস্থ্যকর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দেখাশোনার জন্য রওনা হন।

এই পর্যালোচনা জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি তীব্র করার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তরিক প্রার্থীদের নির্বাচিত আসনে করা কাজের স্তর, ভোটার সংযোগ এবং মাঠে রাজনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিশেষ করে কিছু এলাকায় সংগঠনগত উপস্থিতি দুর্বল, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভাব দেখা গেছে। এসব বিষয়কে ভিত্তি করে তিনি পার্টির ইলেকশন স্টিয়ারিং কমিটিকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পুনর্মূল্যায়ন করতে এবং বিকল্প প্রার্থী বিবেচনা করতে নির্দেশ দেন।

কমিটি সদস্যদের স্থানীয় ইউনিটের মতামত, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং সংগঠনগত প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশদ বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে। তরিকের মতে, এমন প্রক্রিয়া পার্টির নির্বাচনী প্রস্তুতিকে শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় স্তরে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াবে।

বিএনপি নেতারা এই পদক্ষেপকে শাস্তিমূলক নয়, বরং নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি বিস্তৃত কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে পার্টি এমন প্রার্থী চাইবে যারা দৃশ্যমান, সক্রিয় এবং স্থানীয় স্তরে ভোটারকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।

পর্যালোচনার অধীনে ১৭টি আসনের প্রার্থীর পরিবর্তন সম্ভাবনা রয়েছে; এর মধ্যে মুনশিগঞ্জ-৩, সুনামগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ এবং চট্টগ্রাম-৬ উল্লেখযোগ্য। এই আসনগুলোতে স্থানীয় সংগঠনগত কাঠামোর দুর্বলতা ও ভোটার সংযোগের ঘাটতি তরিকের দৃষ্টিতে বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

বিএনপি অভ্যন্তরে এই সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা ও আলোচনা চলমান, যেখানে কিছু উচ্চপদস্থ নেতা নতুন মুখের সংযোজনের পক্ষে এবং অন্যরা অভিজ্ঞ প্রার্থীর সমর্থনে আছেন। তবে সকলেই একমত যে পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী না হলে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠী এই অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনকে পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও তারা সরাসরি মন্তব্য করেনি, তবে পার্টির সংগঠনগত পুনর্গঠন ও প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে নতুন গতিবেগ যোগ করতে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়াতে। তবে প্রার্থীর পরিবর্তন যদি স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে, তবে তা পার্টির ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

পরবর্তী ধাপ হিসেবে তরিকের নির্দেশনা অনুযায়ী ইলেকশন স্টিয়ারিং কমিটি স্থানীয় ইউনিটের মতামত সংগ্রহ করে প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে পার্টি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার জন্য প্রস্তুত হবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করবে।

বিএনপি এই সময়ে গ্রাসমূলক সংগঠন গঠন, স্থানীয় দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি এবং ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপ্রকৃতি তৈরি করতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments