20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি ও জামায়াত‑ই‑ইসলাম নির্বাচনী জোট গঠন

ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি ও জামায়াত‑ই‑ইসলাম নির্বাচনী জোট গঠন

ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াত‑ই‑ইসলাম গতকাল ঢাকা শহরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের জন্য সিট‑শেয়ারিং জোটের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)ও এই জোটে যুক্ত হয়, ফলে জোটের সদস্যসংখ্যা আট থেকে দশে বৃদ্ধি পায়। এনসিপি কনভেনার নাহিদ ইসলাম জোটের মূল উদ্দেশ্য ও কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেন।

নাহিদের মতে, এই জোট কোনো মতবাদের ভিত্তিতে গড়া নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী সুবিধা অর্জনের জন্য গৃহীত একটি কৌশল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এনসিপির সংস্কার, ন্যায়বিচার ও আধিপত্য বিরোধী নীতি অপরিবর্তিত থাকবে এবং জোটের মাধ্যমে সেগুলোকে বাস্তবায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। জোটের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমন্বয় বজায় রেখে ভোটারদের কাছে একই বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে একা নির্বাচনে প্রবেশ করা এনসিপির জন্য বাস্তবসম্মত নয়, এ কারণেই সমমনোভাবাপন্ন দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করা হয়েছে। এনসিপি একা প্রচারণা চালালে ভোটের ভাগে বড় ধাক্কা পেতে পারে, তাই সমন্বিত প্রচারণা ও প্রার্থী সমর্থনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জোটের মাধ্যমে নির্বাচনী বাধা অতিক্রম করে সংস্কারমূলক এজেন্ডা বজায় রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সিট‑শেয়ারিং চুক্তি অনুযায়ী, জোটের সদস্য পার্টিগুলো একত্রে প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করবে এবং নির্বাচনী প্রার্থীর নাম নথিভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় নোমিনেশন পেপার জমা দেবে। এনসিপি ও তার সহযোগী দলগুলো এই প্রার্থীদের প্রচারাভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে, আর যেখানে এনসিপির নিজস্ব প্রার্থী থাকবে না, সেখানে জোটের অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানাবে। এই পদ্ধতি ভোটারদের কাছে একতাবদ্ধ বার্তা পৌঁছানোর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে।

প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় মূল মানদণ্ড হল পার্টির নীতি ও লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা। তাই এমন প্রার্থীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাদের ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী এবং নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করার সম্ভাবনা বেশি। জোটের সদস্যদের মধ্যে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ বা না করার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভরশীল, কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি। এই স্বায়ত্তশাসন জোটের অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনসিপি পূর্বে গঠন করা গনতান্ত্রিক সঙস্কার জোট (গসজো) এখন এই নতুন সিট‑শেয়ারিং চুক্তির ফলে কার্যকরী নয় বলে ঘোষিত হয়েছে। গসজোর ভাঙ্গনের পেছনে জোটের নতুন কাঠামো ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা এনসিপির স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখে বৃহত্তর জোটের অংশ হতে সহায়তা করবে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, যার নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত কলোনেল ওলি আহমেদ, এই জোটে যোগ দিয়ে সদস্যসংখ্যা বাড়িয়েছে। এলডিপি যুক্ত হওয়ায় জোটের প্রভাব বিস্তারের পরিসর বাড়বে এবং নির্বাচনী গতি আরও শক্তিশালী হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। এখন জোটে মোট দশটি দল রয়েছে, যা পূর্বে আটটি দলের জোটের তুলনায় বেশি ভোটার গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম।

জোটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান জোটের সিট‑বণ্টন ও প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে সকল সদস্য পার্টি সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং নির্বাচনী প্রচারণা সময়ে পারস্পরিক সমর্থন বজায় রাখবে। এই সমন্বয় জোটের অভ্যন্তরে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জোটের গঠন প্রধান দুই দল—আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—এর ভোটভাগকে ভাগ করে নিতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে। এনসিপি ও জামায়াতের যৌথ প্রচারণা বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহুরে ভোটারদের মধ্যে সমন্বিত বার্তা পৌঁছাতে সক্ষম হবে, যা ঐতিহ্যগত ভোটার গোষ্ঠীর বাইরে নতুন সমর্থক সংগ্রহে সহায়তা করবে। তবে জোটের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও পর্যবেক্ষণ করা বাকি।

পরবর্তী ধাপ হিসেবে জোটের সদস্য দলগুলো নিকট ভবিষ্যতে প্রার্থীর নোমিনেশন ফাইল জমা দেবে এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবে। ভোটারদের কাছে জোটের নীতি ও লক্ষ্য স্পষ্টভাবে জানাতে র‍্যালি, সভা ও মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালু হবে। শেষ পর্যন্ত, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে এই জোটের পারফরম্যান্স দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments