দক্ষিণ আফ্রিকার হাই কোোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়ে ট্যাবরাইজ শামসির পক্ষে সিদ্ধান্ত নিল। আদালত সিএসএকে (ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা) আদেশ দিল যে, শামসিকে আইপিএল‑এর বাকি অংশের জন্য নো অবজেকশন সনদ (NOC) প্রদান করতে হবে। এই রায়ের প্রভাব ফ্রিল্যান্স ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
শামসি, যিনি বামহাতি রিস্ট স্পিনার, কয়েক দিন আগে মুম্বাই ইনডিয়ানসের ক্যাপ টাউন দলে থেকে নিজে সরে গেছেন। তিনি মূলত আইপিএল ও বিগ ব্যাশ লিগে খেলতে এই পদক্ষেপ নেন। শামসিকে ক্যাপ টাউন দলে প্রায় ২৯,০০০ ডলারে সাইন করা হয়েছিল, তবে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে তিনি চুক্তি থেকে সরে যান, যা নিলামের সময়ের শর্ত লঙ্ঘন করে।
শামসির এই সিদ্ধান্তের পর, নভেম্বর মাসে সিএসএ তার সিদ্ধান্ত স্বীকার করে এবং ক্যাপ টাউন দলে নতুন খেলোয়াড়ের ব্যবস্থা করে। শামসি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১২৭ ম্যাচের অভিজ্ঞতা রাখেন এবং গলফ জায়ান্টসের সঙ্গে আইপিএল‑এর জন্য চুক্তি করেছিলেন।
প্রাথমিকভাবে সিএসএ শামসিকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত টুর্নামেন্টে খেলতে নো অবজেকশন সনদ দেয়। শামসি এই সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে হাই কোোর্টে আপিল করেন এবং পুরো টুর্নামেন্টের জন্য সনদ চেয়ে আদালতে যান। আদালতের রায় শামসির পক্ষে আসে এবং সিএসএকে পুরো টুর্নামেন্টের শেষ দিন, ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত নো অবজেকশন সনদ বাড়াতে এবং শামসির আইনি ব্যয়ের জন্য দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেয়।
বিগ ব্যাশ লিগের জন্য সিএসএ শামসিকে আলাদা নো অবজেকশন সনদ প্রদান করেছে এবং বর্তমানে তিনি অডিলেড স্ট্রাইকার্সের হয়ে রিস্ট স্পিনার হিসেবে খেলছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি‑২০ লিগের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের নো অবজেকশন সনদ সংক্রান্ত জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়ের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নিতে তার নিজ দেশের বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন। সাধারণত দেশীয় মৌসুমে বোর্ডগুলো নো অবজেকশন সনদ ইস্যু করতে অনিচ্ছুক থাকে।
শামসির এই রায়কে উদাহরণ হিসেবে ফ্রিল্যান্স ক্রিকেটাররা নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করতে পারে। গত বছর শামসি সিএসএর জাতীয় চুক্তি থেকে সরে গিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়িয়ে নিয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী শামসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখনও শেষ হয়নি; তিনি ভবিষ্যতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আবারও আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিতে পারেন।
এই রায়ের পর সিএসএকে আইপিএল‑এর বাকি ম্যাচগুলোতে শামসির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং আদালত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নো অবজেকশন সনদ প্রদান করতে হবে। শামসির আইনি প্রক্রিয়ার খরচও সিএসএর দায়িত্বে থাকবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার হাই কোোর্টের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণের নিয়মাবলী পুনর্বিবেচনার দরজা খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের খেলোয়াড়রাও একই ধরনের রায়ের মাধ্যমে নো অবজেকশন সনদ পেতে পারেন, যা ফ্রিল্যান্স ক্রিকেটারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
শামসির আইপিএল‑এর শেষ ম্যাচের তারিখ ৪ জানুয়ারি, এবং তিনি অডিলেড স্ট্রাইকার্সের হয়ে শেষ পর্যন্ত রিস্ট স্পিনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই রায়ের পর সিএসএকে শামসির জন্য নো অবজেকশন সনদের বৈধতা বাড়াতে এবং আইনি ব্যয় বহন করতে হবে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গতি-প্রকৃতিতে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করবে।



