ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগে, ঢাকা থেকে রবিবার রাতে সরকারকে শারিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার দায়ী সকলকে ২৪ দিনের মধ্যে ট্রায়াল শেষ করার আহ্বান জানায়। সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের মতে, হত্যাকারী, পরিকল্পনাকারী, সহায়ক ও পালাতে সাহায্য করা সবাইকে একসাথে বিচারের আওতায় আনা উচিত।
জাবের উল্লেখ করেন, “হত্যা দলীয় সকল সদস্যের ট্রায়াল আগামী চব্বিশ দিনে সম্পন্ন হতে হবে” এবং এ সঙ্গে মঞ্চের তিনটি মূল দাবি পুনরায় তুলে ধরা হয়। প্রথম দাবি হল, বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের কাজের অনুমতি স্থগিত করা।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ভারতীয় কর্মীদের কাজের পারমিট বাতিল করা অপরিহার্য”। দ্বিতীয় দাবি অনুযায়ী, যদি ভারত শরণার্থী হিসেবে দোষী সাব্যস্তদের ফেরত না দেয়, তবে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। তৃতীয় দাবি হল, সিভিল ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থায় ফ্যাসিস্টদের সহযোগী চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
ইনকিলাব মঞ্চের আরেকজন নেতা, বুরহান নোমান, একই সন্ধ্যায় ব্লকেড প্রোগ্রামের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আজকের প্রতিবন্ধকতা কর্মসূচি শেষ হয়েছে এবং আমরা আমাদের দাবি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি”।
শাহবাগে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা মঞ্চের দাবিগুলোকে সমর্থন জানিয়ে স্লোগান শোনায়। মঞ্চের সদস্যরা উল্লেখ করেন, হাদির হত্যার মামলায় দেরি না করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দেশের আইনি স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে সরকারী মুখপাত্রের পূর্ববর্তী মন্তব্যে বলা হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিবেচনা করে সকল দাবি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
হাদির হত্যার মামলায় এখন পর্যন্ত একাধিক সন্দেহভাজন গ্রেফতার হয়েছে, তবে ট্রায়াল প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। মঞ্চের দাবি অনুযায়ী, এই দেরি শিকারের ন্যায়বিচারকে ক্ষুন্ন করে।
ইনকিলাব মঞ্চের দাবি অনুযায়ী, ভারতীয় কর্মীদের কাজের পারমিট স্থগিত করা কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষার একটি পদক্ষেপ। এই দাবির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে ঘটিত কিছু নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা।
আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মঞ্চের মতে, যদি ভারত শরণার্থীদের ফেরত না দেয়, তবে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা একমাত্র উপায়।
সিভিল ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থায় ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ চিহ্নিত করার দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে। মঞ্চের প্রতিনিধিরা বলেন, এই ধরণের সহযোগী সনাক্তকরণ না হলে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বাজারে স্বর্ণের দামও পরিবর্তন হয়েছে; আজ সোমবার থেকে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২,২৯,৪৩০ টাকায় বিক্রি হবে, যা পূর্বের ২,২৭,৮৫৬ টাকার তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের এই চূড়ান্ত দাবি এবং ২৪ দিনের ট্রায়াল শেষের ultimatum দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। সরকার কীভাবে এই দাবিগুলোকে সমন্বয় করবে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।



