ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নারী দল জার্মানির শীর্ষ স্ট্রাইকার লিয়া শুল্লারকে বায়ার্ন মিউনিখ থেকে স্থায়ীভাবে নিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ২৮ বছর বয়সী শুল্লার তার বর্তমান চুক্তির শেষ ছয় মাসে রয়েছে এবং উভয় ক্লাবের মধ্যে স্থানান্তরের সব নথি সম্পন্ন হয়েছে।
শুল্লার বায়ার্নের হয়ে একশোের বেশি গোল এবং জার্মান জাতীয় দলে ৮২ ম্যাচে ৫৪ গোলের রেকর্ড গড়ে তুলেছেন। এই গৌরবময় পারফরম্যান্স তাকে জার্মানির নারী ফুটবলের অন্যতম প্রধান গোলদাতা করে তুলেছে, যা ইউনাইটেডের আক্রমণকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।
ইউনাইটেডের এই স্বাক্ষরকে ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুল্লারকে দলটির নতুন মুখ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা উইমেনস সুপার লিগে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
শুল্লার সম্প্রতি বায়ার্নের বায়ার লেভারকুসেনের বিরুদ্ধে জয়লাভের পর স্টেডিয়ামের সিট থেকে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সময় চোখে অশ্রু ঝরিয়ে দেখানো হয়েছিল। এই দৃশ্যটি তার ক্লাব ছাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে গণ্য করা হয়।
জার্মান সংবাদপত্র Bild ২৩ ডিসেম্বর জানিয়েছে যে Frauen-Bundesliga তার শীর্ষ স্ট্রাইকার হারাতে চলেছে এবং স্থানান্তরের সব কাগজপত্র এখন চূড়ান্ত হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শুল্লারের ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে।
শুল্লার সাতটি ধারাবাহিক মৌসুমে জার্মান লিগে দ্বি-অঙ্কের গোলসংখ্যা বজায় রেখেছেন, যার মধ্যে ২০২১-২২ মৌসুমে ১৬ গোলের সঙ্গে গোল্ডেন বুট জিতেছেন। তার ধারাবাহিকতা এবং গোলদক্ষতা ইউনাইটেডের আক্রমণীয় বিকল্পকে সমৃদ্ধ করবে।
ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও উজ্জ্বল। জুভেন্টাসের বিরুদ্ধে দূরবর্তী জয় অর্জনের পর ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট ফেজে সিডেড অবস্থানে পৌঁছেছে। এই সাফল্য দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নতুন খেলোয়াড়কে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত করেছে।
লিগ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে টটেনহ্যামকে পরাজিত করার পর ইউনাইটেডের জয়ধারা অব্যাহত রয়েছে। এই জয়গুলো দলকে শুল্লারের আগমনের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।
শীতকালীন বিরতির সময় ইউনাইটেড স্বিডিশ ডান-ব্যাক হ্যানা লুন্ডকভিস্টকে তিন ও অর্ধ বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তার আগমন ডিফেন্সিভ লাইনকে শক্তিশালী করেছে এবং দলের সামগ্রিক গঠনকে সমর্থন করেছে।
এছাড়া জাপানি মিডফিল্ডার হিনাতা মিয়াজাওয়াকে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে দল তার মূল খেলোয়াড়ের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। ২০২৩ সালে দলকে যোগদান করার পর থেকে মিয়াজাওয়া ভক্তদের প্রিয় হয়ে উঠেছেন।
ক্লাবের ফুটবল ডিরেক্টর মেট জোনসন মিয়াজাওয়ার গুরুত্বকে উল্লেখ করে বলেছেন যে তিনি দলের খেলায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছেন। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং দলগত সংহতি ইউনাইটেডের সামগ্রিক কৌশলে বড় অবদান রাখে।
শুল্লারের যোগদানের মাধ্যমে ইউনাইটেডের আক্রমণ আরও বহুমুখী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার অভিজ্ঞতা ও গোলদক্ষতা দলকে শীর্ষস্থানীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে। পরবর্তী উইমেনস সুপার লিগের ম্যাচগুলোতে শুল্লার কীভাবে তার দক্ষতা প্রদর্শন করবেন তা সকলের নজরে থাকবে।



