ওয়েস্ট ইন্ডিজের অল-রাউন্ডার জেসন হোল্ডার ২০২৫ সালের টি২০ মৌসুমে এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন। দুবাইতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি২০ (ILT20) ম্যাচে তিনি ২ উইকেটের সঙ্গে ২৪ রান দিচ্ছেন, যা তাকে রাশিদ খান (২০১৮ সালে ৯৬ উইকেট) অতিক্রম করে ৯৭ উইকেটের শীর্ষে পৌঁছে দেয়। হোল্ডার ৬৮টি টি২০ ম্যাচে ৮.৩১ গড়ে এই উইকেট সংগ্রহ করেছেন।
এই রেকর্ডটি তিনি দুবাইতে গাল্ফ জায়ান্টসের বিপক্ষে আবু ধাবি নাইট রাইডার্সের ক্যাপ্টেন হিসেবে খেলার সময় অর্জন করেন। ২/২৪ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি দলকে ৩২ রান পার্থক্যে জয়ী করতে সাহায্য করেন, যা নাইট রাইডার্সকে পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে তুলে আনে। ম্যাচের শেষে দলটি জয়ী হয়ে হোল্ডারের নেতৃত্বের প্রশংসা পায়।
হোল্ডারের ২০২৫ সালের উইকেট সংখ্যা পাঁচটি ভিন্ন টি২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে এসেছে। আবু ধাবি নাইট রাইডার্সে ১৮ ম্যাচে ২৯টি, পাকিস্তান সুপার লিগের ইস্লামাবাদ ইউনাইটেডে ৮ ম্যাচে ১৫টি, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের খুলনা টাইগারসে ২ ম্যাচে কোনো উইকেট না থাকলেও, মেজর লিগ ক্রিকেটের লস এঞ্জেলেসে ৯টি এবং ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস পেট্রিয়টসে ১০ ম্যাচে ১৩টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
গত কয়েক মৌসুমে হোল্ডার তার বোলিং স্টাইলকে পরিশীলিত করে বিশেষভাবে ডেথ ওভারের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ২০২৫ সালে তিনি মোট ৪৫টি ডেথ ওভার উইকেট নেন, যা এই বছর সর্বোচ্চ সংখ্যা এবং তার দলের শেষ ওভারে চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার ধারাবাহিকতা এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আধুনিক টি২০ ক্রিকেটে অনন্য করে তুলেছে।
হোল্ডারের এই অর্জন তার পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ২০২২ সালে তিনি ৪৩ ম্যাচে ৫৯টি উইকেট সংগ্রহ করলেও, ২০২৫ সালে ৬৮ ম্যাচে ৯৭টি উইকেট নিয়ে ৬৪.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে তার শারীরিক ফিটনেস, বোলিং ভ্যারিয়েশন এবং কৌশলগত পরিবর্তনকে মূল কারণ হিসেবে ধরা যায়।
রাশিদ খানকে ছাড়িয়ে রেকর্ড ভাঙলেও হোল্ডারের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আফগানিস্তানের বামহাতি স্পিনার নূর আহমদ, যিনি ৬৪ ম্যাচে ৮৫টি উইকেট নিয়ে হোল্ডারের পিছনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। নূর আহমদের পারফরম্যান্সও চিত্তাকর্ষক হলেও হোল্ডারের সামগ্রিক সংখ্যা এবং ডেথ ওভার দক্ষতা তাকে আলাদা করে তুলেছে।
বোলিংয়ের পাশাপাশি হোল্ডার তার ব্যাটিং দক্ষতায়ও দলকে সমর্থন করেন। তার নিম্ন-অর্ডার ব্যাটিং কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ রান যোগায়, যা টিমের মোট স্কোরে অতিরিক্ত শক্তি যোগায়। এই দ্বিমুখী ক্ষমতা তাকে আধুনিক টি২০ ফরম্যাটে অমূল্য সম্পদ করে তুলেছে।
হোল্ডারের রেকর্ড ভাঙা কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্যও বড় প্রেরণা। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি স্তরে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে আরও তরুণ বোলারদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করে। টি২০ ক্রিকেটের দ্রুতগামী দুনিয়ায় হোল্ডারের এই মাইলফলক তার ক্যারিয়ারের অন্যতম শীর্ষ মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হবে।



