জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম রোববার রাত প্রায় দশটায় ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনী সময়কালে পার্টির সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখবেন। তাবাসসুম কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে এনসিপি থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং তার বাড়ি দৌলতপুর উপজেলায় অবস্থিত।
এনসিপি প্রতিষ্ঠার সময়ই গণতন্ত্রের সমতা, নতুন ব্যবস্থাপনা, মধ্যপন্থা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং বাংলাদেশমুখী নীতি প্রস্তাব করে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক স্বপ্ন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিল। তাবাসসুমের মতে, এই নীতিগুলোই পার্টির ঘোষণাপত্র ও অন্যান্য সাহিত্যিক নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত এবং তার নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মূল ভিত্তি।
নুসরাত তাবাসসুমের ফেসবুক পোস্টে তিনি সংক্ষেপে পার্টির মূল আদর্শের প্রতি তার অবিচল বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এনসিপি তার জন্মের মুহূর্তে যে স্বপ্ন দেখিয়েছে তা তিনি মনের গভীরে ধারণ করেন। তিনি বলেন, এই আদর্শগুলোই তার রাজনৈতিক স্বপ্নের ভিত্তি এবং তিনি সেগুলোকে সর্বদা রক্ষা করতে চান।
তবে তাবাসসুমের পোস্টে পার্টির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তীব্র সমালোচনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২৮ ডিসেম্বর, ঠিক দশ মাস পর, জামায়াতে ইসলামীসহ দশদলীয় জোটে অংশগ্রহণের শর্তসাপেক্ষে এনসিপি যুক্ত হয়েছে, যা তার মতে পার্টির মূল নীতি থেকে বিচ্যুতি। তাবাসসুমের মতে, এই জোটের সিদ্ধান্তে পার্টির শীর্ষ নেতারা এবং নীতিনির্ধারকরা মূল বক্তব্য থেকে সরে গেছেন।
বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেন, জনাব আহ্বায়ক (নাহিদ ইসলাম) সহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে ৩০০ আসনে প্রার্থী প্রদান করার ঘোষণা শোনা গিয়েছে। তাবাসসুমের মতে, এই ধরনের প্রতিশ্রুতি এবং জোটের ঘোষণার মাধ্যমে তৃণমূল স্তর এবং মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে অবিচার হয়েছে। তিনি এই ঘটনাগুলোকে পার্টির অভ্যন্তরে প্রবঞ্চনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
এইসব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নুসরাত তাবাসসুম নিজেকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচনকালীন সময়ে পার্টির সব কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তটি সাময়িক এবং পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করে ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবেন। তাবাসসুমের এই ঘোষণা পার্টির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের অবস্থান ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
এনসিপি এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, তবে তাবাসসুমের নিষ্ক্রিয়তা দলের সমন্বয় ও প্রচারণা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। পার্টির অন্যান্য নেতারা কীভাবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানাবেন এবং জোটের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে সামঞ্জস্য করবেন, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, তাবাসসুমের পদক্ষেপ পার্টির অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা ও নীতি-নির্ভরতা বজায় রাখার জন্য একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। যদি পার্টি জোটের শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা না করে, তবে অন্যান্য সদস্যদের কাছেও অনুরূপ পদক্ষেপের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নুসরাত তাবাসসুমের ঘোষণায় দেখা যায়, তিনি পার্টির মূল আদর্শের প্রতি অটল থাকলেও বর্তমান নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং নির্বাচনী সময়ে নিজেকে নিষ্ক্রিয় রাখার মাধ্যমে পার্টির অভ্যন্তরে পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এনসিপি কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে এবং তাবাসসুমের অবস্থান পরিবর্তন হবে কিনা, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।



