জাতীয় পার্লামেন্টের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জাতীয় পার্টি সহ-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফা আজ রংপুরে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে পার্টির লক্ষ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পার্টি ২৪৩টি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী দাখিল করেছে এবং কমপক্ষে ১০০টি সীটে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই মন্তব্যগুলো তিনি রংপুর শহরের পল্লী নিবাসে, পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমাধিতে শোকস্মরণে শোকস্মৃতি অর্পণ ও প্রার্থীর পক্ষ থেকে শোকসন্ধ্যা শেষে দেন। সমাবেশে জাতীয় পার্টির রংপুর-১ নির্বাচনী প্রার্থী ব্যারিস্টার মনজুম আলীর উপস্থিতি ছিল।
মোস্তাফা বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ যদি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত থাকে, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং সকল প্রার্থীর সমান প্রচার সুযোগ থাকে, তবে জাতীয় পার্টি তার লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্টির অভ্যন্তরে যারা একসময় ত্যাগ করে গেছেন, তাদের মধ্যে কিছু ইতিমধ্যে ফিরে এসে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন।
প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পার্টি এমন ব্যক্তিদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যাদের জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি এবং যারা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে সক্ষম। এই নীতির ভিত্তিতে ব্যারিস্টার মনজুমকে রংপুর-১ সীটে পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
মোস্তাফা রংপুর-১-এ জয়ের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির বিজয়ের ধারাবাহিকতা শুরু হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সীটে পার্টির জয় পুরো দেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ব্যারিস্টার মনজুম আলী, যিনি রংপুরের স্থানীয় উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করছেন, তিনি বলেন, এই এলাকায় প্লৌ সিম্বলকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সমর্থন গড়ে উঠেছে। তিনি তার নির্বাচনী প্রচারকে জনগণের মঙ্গলের জন্য নিবেদিত বলে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে জাতীয় পার্টির উপ-চেয়ারম্যান আব্দুর রজাক, সংগঠন সচিব হাসানুজ্জামান নাজিম, গাঙ্গাচারা উপজেলা পার্টি সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব ফারুক আহমেদ, লাক্কিতারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদি এবং অন্যান্য নেতা ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই নেতারা পার্টির সংগঠনগত কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং নির্বাচনী ক্যাম্পেইনকে সমন্বিতভাবে চালানোর জন্য কৌশল নির্ধারণে একত্রিত হয়েছেন। তারা সকলেই একমত যে, ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা নির্বাচনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
জাতীয় পার্টি ২০২৪ সালের শেষের দিকে গৃহীত নির্বাচনী পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে দলীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ, ভোটার তালিকা আপডেট এবং নির্বাচনী প্রোগ্রাম প্রচারে জোর দেবে। পার্টি নেতৃত্বের মতে, এই প্রস্তুতি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং তাদের সমস্যার সমাধানকে কেন্দ্র করে হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিরোধী দলগুলো জাতীয় পার্টির এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছে। তারা উল্লেখ করেছে, পার্টির প্রার্থী সংখ্যা ও লক্ষ্য সীট সংখ্যা বৃদ্ধি নির্বাচনী গতি পরিবর্তন করতে পারে, তবে বাস্তব ফলাফল ভোটারদের প্রকৃত পছন্দের ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, রংপুর-১-এ জাতীয় পার্টির জয় যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে পার্টি অন্যান্য প্রান্তিক এলাকায়ও সমর্থন বাড়াতে সক্ষম হবে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের হারই শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে।
জাতীয় পার্টি এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্বাচনী সময়সূচি, প্রার্থীর প্রোফাইল এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে ব্যাপক পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পার্টি নেতৃত্বের মতে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানই তাদের মূল কৌশল হবে, যা শেষ পর্যন্ত ১০০ সীটের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে।



