22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক তাবাসসুম নির্বাচনকালীন সময়ে পার্টির কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে...

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক তাবাসসুম নির্বাচনকালীন সময়ে পার্টির কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ালেন

রবিবার রাত, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে তিনি নির্বাচনী সময়কালে পার্টির সব কার্যক্রম থেকে নিজেকে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখবেন। তাবাসসুমের এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি পার্টির মূল নীতি ও আদর্শ থেকে নেতৃত্বের বিচ্যুতি উল্লেখ করেছেন।

তাবাসসুমের পোস্টে তিনি এনসিপি-কে প্রতিষ্ঠার সময়ের স্বপ্নের কথা স্মরণ করে বলেন যে, দলটি গণতন্ত্রের ন্যায্যতা, নতুন ব্যবস্থাপনা, মধ্যপন্থী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ, সভ্যতা-ভিত্তিক সম্প্রসারণ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশপ্রেমের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আদর্শগুলোই তার রাজনৈতিক স্বপ্নের মূল ভিত্তি।

প্রকাশিত পোস্টে তাবাসসুম উল্লেখ করেন যে, ১০ মাস আগে, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪-এ, এনসিপি জামায়াতে ইসলামীসহ দশটি দলীয় জোটে অংশগ্রহণের জন্য শর্তসাপেক্ষে যুক্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, এই জোটে অংশগ্রহণের ফলে পার্টির শীর্ষ নেতারা এবং নীতিনির্ধারকরা মূল আদর্শ থেকে সরে গেছেন। তাবাসসুম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সময়ে আহ্বায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে ৩০০টি আসনে প্রার্থী দানের প্রতিশ্রুতি শোনা গিয়েছে।

এ ধরনের ঘোষণার ফলে তাবাসসুমের মতে, তৃণমূল স্তরে মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে জোটের চুক্তি করা হয়েছে, যা মূলত পার্টির স্বার্থের প্রতি প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি নিজেকে নির্বাচনী সময়ে পার্টির সব কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় রাখার সিদ্ধান্ত নেন এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়ে দেন।

এনসিপি-র প্রতিষ্ঠার সময়ের ঘোষণাপত্র ও দলীয় নথিপত্রে যে নীতি-নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে, তাবাসসুমের মতে, সেগুলোই এখনো তার মনের গভীরে সংরক্ষিত। তবে বর্তমান জোটের শর্তাবলী ও প্রার্থীর নির্বাচন প্রক্রিয়া তার মতে, ঐ নীতিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাবাসসুমের এই মন্তব্য পার্টির অভ্যন্তরে কিছু আলোচনার সূচনা করেছে, যদিও এখনো অন্য কোনো উচ্চপদস্থ নেতার কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাতীয় নাগরিক পার্টি, যা ২০১৯ সালে গঠিত হয়, তার মূল লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক সংস্কার, মধ্যমার্গের নীতি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন। তাবাসসুমের এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও জোটের কৌশলগত দিকের সূচক হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, জোটের অংশীদার দলগুলো এখনও তাদের যৌথ প্রোগ্রাম ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তাবাসসুমের এই ঘোষণা নির্বাচনী সময়ে এনসিপি-র অবস্থানকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তিনি যে সাময়িকভাবে পার্টির কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ালেন, তা দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পুনর্গঠন ও নীতি-পর্যালোচনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি যদি পুনরায় সক্রিয় হন, তবে তা পার্টির কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও জোটের অবস্থানকে পুনরায় গঠন করতে পারে।

এই ঘটনার পর, এনসিপি-র অন্যান্য সদস্য ও সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে তাবাসসুমের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন ও উদ্বেগের মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কিছু সমর্থক তার সিদ্ধান্তকে পার্টির স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রতিফলন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে কিছু সমালোচক জোটের সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে পার্টির স্বাতন্ত্র্য হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সামগ্রিকভাবে, নুসরাত তাবাসসুমের এই পদক্ষেপ এনসিপি-র নির্বাচনী কৌশল, জোটের গঠন এবং পার্টির অভ্যন্তরীণ নীতি-পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পরবর্তী দিনগুলোতে পার্টির নেতৃত্ব কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবে এবং তাবাসসুমের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা কী হবে, তা দেশের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments