শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ২৮ ডিসেম্বর রোববার সরকারী ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২০২৬ সালের ছুটি ও পরীক্ষার পূর্ণ তালিকা জানিয়েছে। এই তালিকায় মোট ৬৪ দিনের ছুটি নির্ধারিত হয়েছে, যা গত বছর ৭৬ দিনের তুলনায় ১২ দিন কম। সাপ্তাহিক ছুটি বাদে এই বন্ধগুলো সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতি মার্চ মাসে থাকবে। ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ধারাবাহিক ১৯ দিন স্কুল বন্ধ থাকবে, যার মধ্যে পবিত্র রমজান, স্বাধীনতা দিবস এবং ঈদ‑উল‑ফিতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎসব অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষার্থীরা এই সময়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পারিবারিক সমাবেশে অংশ নিতে পারবে।
এরপরের বড় ছুটি ঈদ‑উল‑আযহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য নির্ধারিত। ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত মোট ১২ দিন স্কুল বন্ধ থাকবে, যা গ্রীষ্মের প্রথম দিকে শিক্ষার্থীদের বিশ্রাম ও পুনরুজ্জীবনের সুযোগ দেবে।
শরৎকালে শারদীয় দুর্গাপূজার সময় ১৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত দুর্গা পূজার আয়োজনে অংশ নিতে পারে এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারে।
শীতের শেষ দিকে বড়দিন ও শীতকালীন অবকাশের জন্য ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দশ দিন ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা শীতের ছুটির আনন্দ উপভোগ করে নতুন বছরের প্রস্তুতি নিতে পারবে।
পরীক্ষার সময়সূচি সম্পর্কেও মন্ত্রণালয় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। অর্ধ‑বার্ষিক বা প্রাক‑নির্বাচনি পরীক্ষা ২৮ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে, এবং ফলাফল ২৯ জুলাই প্রকাশ করা হবে।
এসএসসি (মাধ্যমিক) পরীক্ষার জন্য নির্বাচনি পরীক্ষা ২৮ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে, যার ফলাফল ১৮ নভেম্বর জানানো হবে। এই দুই সপ্তাহের পরীক্ষার পরপরই বার্ষিক পরীক্ষা ১৯ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে, এবং ফলাফল ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা বিভাগের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচিও জানানো হয়েছে। এই পরীক্ষা ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে, এবং ফলাফল একই দিনে, অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে।
প্রতিটি বিদ্যালয়কে মন্ত্রণালয়ের এই তালিকা অনুসারে ছুটি ও পরীক্ষার সময়সূচি ঠিকভাবে মেনে চলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। সাপ্তাহিক ছুটি, যেমন রবিবার, এই গণনায় অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই মোট ছুটির দিন সংখ্যা শুধুমাত্র বিশেষ ছুটি ও অবকাশের জন্য নির্ধারিত।
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: দীর্ঘ ছুটির আগে এবং পরে একটি বাস্তবিক পড়াশোনার পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, রমজান ও ঈদ‑উল‑ফিতরের সময়ে ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ্যবইয়ের পুনরাবৃত্তি করা, এবং গ্রীষ্মের ছুটিতে বিষয়ভিত্তিক রিভিউ শিডিউল তৈরি করা শিক্ষার গতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
অবশেষে, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা যায় যে তারা ছুটির সময় পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে সামাজিক দক্ষতা গড়ে তুলবে, একইসাথে স্ব-শিক্ষার জন্য কিছু সময় বরাদ্দ করবে। এভাবে ছুটি ও পরীক্ষার সমন্বয় শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে সহায়তা করবে।



