বিবিসি রেডিও ৪’র ‘ডেজার্ট আইল্যান্ড ডিস্কস’ অনুষ্ঠানে জোজো ময়েস তার বেস্টসেলিং রোমান্স উপন্যাস ‘মি বিফোর ইউ’ সম্পন্ন করার পেছনের অনুপ্রেরণা শেয়ার করেছেন। ময়েস জানান, ২০,০০০ শব্দ লিখে তিনি লেখালেখি থামাতে চেয়েছিলেন, কারণ দীর্ঘ সময়ের কম বাণিজ্যিক সাফল্যের ফলে তিনি হতাশা ও আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
সেই সময়ে তিনি সমসাময়িক রোমান্স লেখক সফি কিন্সেলার সঙ্গে এক দুপুরের খাবার ভাগ করে নেন। সফি, যিনি ২০২২ সালে মস্তিষ্কের আক্রমণাত্মক ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন এবং এই বছর ৫৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, ময়েসকে দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দেন যে বইটি শেষ করে না দিলে তিনি অনুতপ্ত হবেন। ময়েসের মতে, সফি সরাসরি বলেছিলেন, “এই বইটি লিখতে হবে, এটা তোমার কাজ।” এই কথায় ময়েসের আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে এবং তিনি লেখালেখি চালিয়ে যান।
সফির স্বামী হেনরি, যিনি ময়েসের কাজের কথা শুনে ফোনে উৎসাহের কথা বলেন, তাও ময়েসকে পুনরায় লেখার পথে ধাবিত করে। ময়েস এই সমর্থনকে তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। শেষ পর্যন্ত ‘মি বিফোর ইউ’ আন্তর্জাতিক বেস্টসেলারে পরিণত হয় এবং ২০১৬ সালে এমিলিয়া ক্লার্ক ও স্যাম ক্ল্যাফলিনের অভিনয়ে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়।
‘মি বিফোর ইউ’ সিরিজের মূল চরিত্র লুইসা ক্লার্ক, একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে, যিনি ধনী ও প্যারাপ্লেজিক উইল ট্রেনরের যত্ন নিতে বাধ্য হন। এই গল্পের ভিত্তি ময়েসের দেখা একটি সংবাদ, যেখানে এক তরুণ রাগবি খেলোয়াড় দুর্ঘটনায় কুইড্রিপ্লেজিক হয়ে যায় এবং তার পরিবার তাকে সুইজারল্যান্ডের সহায়ক মৃত্যুক্লিনিকে নিয়ে যায়। ময়েস এই বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে উপন্যাসের থিম গড়ে তোলেন।
ময়েস বলেন, তিনি জানতেন না যে এই বইটি এত বড় সাড়া পাবে, তবে পাঠকদের সঙ্গে এর সংযোগ তাকে অবাক করেছে। সফি কিন্সেলার মৃত্যুর পরেও, ময়েসের জন্য তার উৎসাহ ও সমর্থন একটি অমলিন স্মৃতি রয়ে গেছে। ময়েসের এই অভিজ্ঞতা লেখক-লেখিকাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে: কঠিন সময়ে সঠিক সমর্থন ও উৎসাহ সৃজনশীলতা পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।
সফি কিন্সেলার আসল নাম মাডেলিন সফি উইকম, যিনি ২০২২ সালে মস্তিষ্কের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে এই বছরই মৃত্যুবরণ করেন। তার সাহিত্যিক ক্যারিয়ার বহু বেস্টসেলার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, এবং তার কাজের মাধ্যমে তিনি বহু তরুণ লেখকের জন্য রোল মডেল ছিলেন। ময়েসের এই গল্পে সফির প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা পাঠকদেরকে লেখালেখির পথে দৃঢ়তা বজায় রাখতে অনুপ্রাণিত করে।
‘ডেজার্ট আইল্যান্ড ডিস্কস’ অনুষ্ঠানে ময়েসের এই বর্ণনা শোনার পর দর্শকরা সফি কিন্সেলার মানবিক দিক ও তার সহানুভূতিশীল স্বভাবের প্রশংসা করেন। ময়েসের কথায় স্পষ্ট যে, সফির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ও সমর্থন তার সৃজনশীল যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল।
আজকের দিনে ‘মি বিফোর ইউ’ শুধুমাত্র একটি উপন্যাস নয়, বরং মানবিক দয়া, বন্ধুত্ব ও সাহসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সফি কিন্সেলার স্মৃতি ও তার লেখালেখি প্রেরণা দিয়ে, নতুন প্রজন্মের লেখকরা তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার পথে অগ্রসর হতে পারে।



