ডিসরাপ্টের বার্ষিক স্টার্টআপ ব্যাটলফিল্ড প্রতিযোগিতায় স্বাস্থ্য ও সুস্থতা ক্ষেত্রের ৩৩টি উদ্ভাবনী স্টার্টআপকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতি বছর হাজারেরও বেশি আবেদনকারী থেকে ২০০টি প্রকল্প বাছাই করা হয়, যার মধ্যে শীর্ষ ২০টি সরাসরি মঞ্চে উপস্থাপনা করে পুরস্কার জয়ের সুযোগ পায়। বাকি ১৮০টি দলও নিজস্ব ক্যাটেগরিতে প্রতিযোগিতা করে, এবং এই বছর স্বাস্থ্য‑সুবিধা বিভাগে নির্বাচিত স্টার্টআপগুলো প্রযুক্তি ও রোগীর সেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রথম উল্লেখযোগ্য স্টার্টআপটি AI‑ভিত্তিক সেন্সর এবং স্বয়ংক্রিয় UV ডিসইনফেকশন রোবট ব্যবহার করে অপারেশন থিয়েটারকে দ্রুত পরিষ্কার করে। রোবটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কক্ষের সব কোণায় UV আলো ছড়িয়ে দেয়, ফলে সার্জারির প্রস্তুতি সময় কমে এবং রোগীর নিরাপত্তা বাড়ে। হাসপাতালের জন্য এটি রোগীর প্রবাহ বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা রাখে।
আর্মেনিয়ার একটি দল ৩ডি প্রিন্টেড প্রোস্থেটিক বাহু তৈরি করেছে, যা প্রচলিত বায়োনিক আর্মের তুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যে উৎপাদন করা যায়। স্থানীয় বাজারে কম দামের এই পণ্যটি অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য সহজলভ্য সমাধান প্রদান করে, ফলে শারীরিক স্বাধীনতা বাড়ে।
একটি আরেকটি স্টার্টআপ ইলেকট্রনিক কৃত্রিম ত্বক তৈরি করছে, যেখানে সংবেদনশীল সেন্সর সংযুক্ত থাকে এবং প্রোস্থেটিক লিম্বের ব্যবহারকারীর স্পর্শের অনুভূতি পুনরুদ্ধার করে। এই প্রযুক্তি অ-আক্রমণাত্মক এবং বিদ্যমান প্রোস্থেটিকের সঙ্গে সহজে সংযুক্ত করা যায়, যা ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য যোগায়।
কানের ওপর পরিধানযোগ্য EEG ডিভাইস বিকাশকারী কোম্পানি ক্রনিক স্ট্রেস পর্যবেক্ষণ ও তা কমাতে রিয়েল‑টাইম ফিডব্যাক প্রদান করে। ফিটবিটের মতো পদক্ষেপ ট্র্যাকিং ডিভাইসের তুলনায়, এই গ্যাজেট মস্তিষ্কের তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীকে শ্বাস-প্রশ্বাস ও ধ্যানের মাধ্যমে চাপ কমাতে সহায়তা করে।
একটি নিউরোইমপ্ল্যান্ট স্টার্টআপ নরম উপাদান ব্যবহার করে মস্তিষ্কের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সংযোগ স্থাপন করে, যা গুরুতর স্নায়বিক রোগের চিকিৎসায় সহায়তা করে। নরম উপাদানটি স্নায়ুতন্ত্রের সাথে নিরাপদে যুক্ত হতে পারে এবং বছরের পর বছর স্থায়ী থেরাপি প্রদান করতে সক্ষম।
বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রযুক্তি-সক্ষম কেয়ারগিভার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা একটি উদ্যোগ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যত্নদাতাদের রোগীর সঙ্গে সংযুক্ত করে। এই পদ্ধতি সীমিত কেয়ারগিভার সম্পদের ব্যবহার সর্বোচ্চ করে, ফলে এক সময়ে অধিক রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়।
উগান্ডার একটি স্টার্টআপ চিকিৎসা ডিভাইসের স্থানীয় উৎপাদনে মনোনিবেশ করেছে, যা মূলত রোগ নির্ণয় ও পর্যবেক্ষণে ব্যবহার হয়। স্থানীয় উৎপাদন শৃঙ্খল গড়ে তোলার মাধ্যমে সরঞ্জামের খরচ কমে এবং আফ্রিকান বাজারে দ্রুত প্রবেশ সম্ভব হয়।
বাকি তালিকায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ভিত্তিক রোগ পূর্বাভাস সিস্টেম, রিমোট পেশেন্ট মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম, মাইক্রোবায়োম বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত ডায়েট পরিকল্পনা, এবং বায়োফিডব্যাক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘুমের গুণমান উন্নয়নকারী স্টার্টআপ অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যেকটি প্রকল্পের লক্ষ্য রোগীর জীবনমান উন্নত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে খরচ কমানো।
এই ৩৩টি স্টার্টআপের অংশগ্রহণের পেছনে টেকক্রাঞ্চের কঠোর স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখানে প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা, বাজারের চাহিদা এবং স্কেলেবিলিটি বিবেচনা করা হয়। নির্বাচিত দলগুলোকে পরবর্তী পর্যায়ে পিচ ডেক প্রস্তুতি, মেন্টরশিপ এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ প্রদান করা হয়।
ডিসরাপ্টের এই বছর স্বাস্থ্য‑সুবিধা ক্যাটেগরিতে প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলো ভবিষ্যতে হাসপাতাল পরিচালনা, প্রোস্থেটিক ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং বয়স্ক যত্নে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে। প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়ই আগামী দশকে রোগীর অভিজ্ঞতা ও সিস্টেমের দক্ষতা বাড়ানোর মূল চাবিকাঠি হবে।



