প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আজ ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)‑এর সদস্য হবেন না এবং জামাত‑এনসিপি জোটের আওতায় ঢাকা থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মাহফুজের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তার আদর্শিক অবস্থান রক্ষা করা কোনো প্রার্থী মনোনয়নের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জামাত‑এনসিপি জোটের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসলেও, তার দীর্ঘস্থায়ী নীতি বজায় রাখা অগ্রাধিকার।
তিনি অতিরিক্তভাবে স্পষ্ট করেন, গত এক বছর অর্ধেক সময় তিনি এনসিপি ও নাগরিক কমিটির জন্য কৌশলগত পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন, যা উভয়ই তার “জুলাই সহযোদ্ধা”দের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। যদিও তিনি তাদের প্রতি সম্মান ও বন্ধুত্ব বজায় রাখেন, তবু এনসিপিতে যোগদান তার পরিকল্পনার অংশ নয়।
মাহফুজের মতে, এনসিপি “বড় জুলাই ছাতা” গঠনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রশ্ন তোলেন, এই প্ল্যাটফর্মগুলো কি সত্যিই নতুন রাজনৈতিক‑অর্থনৈতিক চুক্তি, ফ্যাসিবাদ বিরোধী সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ এবং সহানুভূতিপূর্ণ সমাজ গড়ার নীতি গ্রহণ করেছে কিনা।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে তিনি “শীতল যুদ্ধ” রূপে বর্ণনা করেন এবং এ সময়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সর্বোত্তম কৌশল বলে উল্লেখ করেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ক্ষেত্রের মাধ্যমে সক্রিয়তা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
মাহফুজের মন্তব্যে তিনি একটি বিকল্প ও মধ্যমপন্থী যুব শক্তির উদয়কে আশাবাদী দৃষ্টিতে দেখেন এবং এই আন্দোলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা তার সঙ্গে যুক্ত হতে চান তারা স্বাগত। একই সঙ্গে তিনি শারিফ ওসমান হাদির ন্যায়বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি তুলে ধরে, তিনি উল্লেখ করেন যে মাহফুজের সিদ্ধান্ত পার্টির অভ্যন্তরীণ আলোচনার পরিণতি এবং জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। নাহিদের মতে, পার্টি এখনো তার মূল লক্ষ্যগুলো পুনর্বিবেচনা করে নতুন কৌশল গড়ে তুলতে হবে।
মাহফুজের পদক্ষেপের ফলে জামাত‑এনসিপি জোটের নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষত ঢাকা আসনের জন্য বিকল্প প্রার্থী খোঁজার ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, এই সিদ্ধান্ত পার্টির সমর্থক ভিত্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী গঠনে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।
জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট গঠন ও বিচ্ছেদ প্রায়ই ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তন করে। মাহফুজের মতবিরোধ ও তার স্বতন্ত্র অবস্থান এই গতিবিদ্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, বিশেষত যখন যুব শক্তির উত্থান এবং মধ্যমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।
সামগ্রিকভাবে, মাহফুজ আলমের এই ঘোষণা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি নতুন মোড় নির্দেশ করে। তিনি আদর্শিক নীতি রক্ষার জন্য পার্টি থেকে দূরে সরে গেছেন, তবে সক্রিয়তা ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য তার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে তার ভূমিকা কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপগুলোতে দেখা যাবে, এনসিপি ও জামাত কীভাবে জোটের কৌশল পুনর্গঠন করবে এবং মাহফুজের সমর্থকরা কীভাবে তার নতুন উদ্যোগে যুক্ত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তত্ত্বাবধান করছেন, এই পরিবর্তনগুলো দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ভারসাম্যকে কীভাবে প্রভাবিত করবে।



