২০২৫ সালের ফুটবল মৌসুমে নতুন মুখের উত্থান নজরে এসেছে। তিনজন তরুণ খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এবং ক্লাব পর্যায়ে আলাদা করে তুলেছে, যা ভবিষ্যতে তাদেরকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
ব্রাজিলের এস্টেভাও ১৮ বছর বয়সে দেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিভা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৩ সালের ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইউ-১৭ বিশ্বকাপে তিনি পাঁচটি ম্যাচে তিনটি গোল এবং তিনটি সহায়তা করে দলের আক্রমণকে সমর্থন করেন। এরপর প্যালমেইরাসে তার দক্ষতা আরও নিখুঁত করে, এবং ২০২৫ সালের ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের মঞ্চে তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টিগোচর করে।
ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের পারফরম্যান্সের পরই চেলসির সঙ্গে উচ্চমূল্যের চুক্তি সম্পন্ন হয়। ইংরেজি লিগে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এস্টেভাও, ব্রাজিলের জাতীয় দলে সাম্প্রতিক চারটি ম্যাচে পাঁচটি গোলের মাধ্যমে তার আক্রমণাত্মক ক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তার গতি, টেকনিক এবং গোলের স্বাভাবিকতা তাকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে গড়ে তুলছে।
ফ্রান্সের পিএসজি-তে ২০ বছর বয়সী ডেজায়ার দুয়ে দ্রুতই দলের মূল খেলোয়াড়ের মর্যাদা অর্জন করে। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজি ৫-০ স্কোরে ইন্টার মিলানকে পরাজিত করতে দুয়ে দু’টি গোলের মাধ্যমে বড় ভূমিকা রাখে। একই বছর ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের সর্বোত্তম তরুণ খেলোয়াড় পুরস্কার জিতে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থান দৃঢ় করেন।
দুয়ের পারফরম্যান্সের পরেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু আঘাতের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তবে তার পুনরুদ্ধার এবং মাঠে ফিরে আসা দল ও জাতীয় দলের জন্য তার গুরুত্বকে কমিয়ে দেয় না। পিএসজি এবং লেস ব্লু উভয়েরই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় দুয়ের অবদান অপরিহার্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জার্মানির নিক ওলটেমাদে ২৩ বছর বয়সে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সঙ্গে ৭৫ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড ট্রান্সফার সম্পন্ন করে। ১.৯৮ মিটার উচ্চতার এই শারীরিক গঠন তাকে প্রিমিয়ার লিগ এবং ইউইউএফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দ্রুতই আলাদা করে তুলেছে। তার শারীরিক শক্তি এবং গোল করার ক্ষমতা নিউক্যাসলের আক্রমণকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ওলটেমাদের জাতীয় দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জার্মানির হয়ে আটটি ম্যাচে চারটি গোল করে তিনি দলের স্কোরিং অপশনকে সমৃদ্ধ করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের ইউইউএফা টুর্নামেন্টে শীর্ষ স্কোরার হিসেবে তার নাম উঠে এসেছে, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সূচনা নির্দেশ করে।
এই তিনজন তরুণের উত্থান শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব ক্লাবের জন্য নয়, বরং তাদের জাতীয় দলের জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে বড় টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার ইঙ্গিত দেয়।
ফিফা ও ইউইউএফা কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন টুর্নামেন্টে এই তরুণদের পারফরম্যান্স দেখিয়ে দিয়েছে যে, ২০২৫ সালের পরের দশকে তারা বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে থাকতে পারে। তাদের উন্নয়ন এবং ক্লাবের সমর্থন ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
ফুটবলের উত্সাহী ভক্তদের জন্য এই নতুন তারকারা একটি আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। তাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা এবং ক্লাব ও জাতীয় দলের সঙ্গে সমন্বয় ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন রেকর্ড গড়ে তুলতে পারে।



