নাইজারের সামরিক শাসকগণ শুক্রবারের ক্যাবিনেট সভার পর একটি সাধারণ মোবিলাইজেশন আদেশ জারি করে, যার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে নাগরিক ও সম্পদের সংগ্রহের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি জুলাই ২০২৩-এ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শাসন গ্রহণের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তরের উত্তেজনা নির্দেশ করে, যখন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজৌমকে অপসারণ করা হয়েছিল।
সরকারের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সাধারণ মোবিলাইজেশনের সময় মানুষ, সম্পত্তি ও সেবা সংগ্রহ করা যেতে পারে, যাতে মাতৃভূমির প্রতিরক্ষায় অবদান রাখা যায়, এবং এটি বর্তমান আইন ও নিয়মের অধীনে করা হবে।” এছাড়া, সকল নাগরিককে তৎক্ষণাৎ যেকোনো আহ্বান বা পুনঃআহ্বান মেনে চলতে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সরকার উল্লেখ করেছে, জাতীয় ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা এবং জনগণকে সুরক্ষিত রাখা, বিশেষ করে যখন বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশজুড়ে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। নিজার দশকের বেশি সময় ধরে অ্যাল-কায়েদা ও আইএসআইএল (ইসিস) সংযুক্ত গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র সংঘাতের শিকার হয়েছে, যেখানে আনুমানিক দুই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম এবং তার শাখা গোষ্ঠী আইএসআইএল‑ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (ISWAP) নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। সামরিক শাসনকর্তারা পাঁচ বছর আগে সেনাবাহিনীর সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ হাজারে বাড়িয়ে এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবসর বয়স ৪৭ থেকে ৫২ বছর বাড়িয়ে শক্তি বৃদ্ধি করেছিল।
শাসকগণ নাগরিকদের স্বেচ্ছায় আর্থিক দান করার আহ্বানও জানিয়েছেন, যা ২০২৩ সালে গৃহীত একটি তহবিলের মাধ্যমে সামরিক ব্যয় ও কৃষি প্রকল্পকে সমর্থন করবে। এই তহবিলের মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত সম্পদ সংগ্রহ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে চায়।
নাইজারের সামরিক শাসনকর্তা এই সাধারণ মোবিলাইজেশনকে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। তারা দাবি করে, এই ব্যবস্থা না থাকলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলায় যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে, তারা নাগরিকদেরকে দেশের রক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়ে, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য মানবিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং জোর দিয়ে বলেছে, সকল ব্যবস্থা দেশের স্বার্থে এবং আইনগত ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে, এই সাধারণ মোবিলাইজেশন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে, তা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। যদি সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণ কমে যায়, তবে সরকার সম্ভবত এই মোবিলাইজেশনকে ধীরে ধীরে হ্রাস করতে পারে। অন্যদিকে, যদি হুমকি বৃদ্ধি পায়, তবে অতিরিক্ত কঠোর নিরাপত্তা পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়ে যাবে।
সামগ্রিকভাবে, নিজারের সামরিক শাসকগণ দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি ব্যাপক এবং তীব্র পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করবে।



