রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটে নতুন দুই দল—জাতীয় সমন্বয় পার্টি (এনসিপি) ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)—অফিসিয়ালভাবে যুক্ত হয়েছে। এই যোগদানের ফলে জোটের সদস্য দলের সংখ্যা দশে পৌঁছেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সমন্বয়কে শক্তিশালী করে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রোববারের সন্ধ্যায় আট দলের প্রতিনিধিদের সামনে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি ও এলডিপি জোটে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে জোটের কাঠামো আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং সমন্বিত কৌশল গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম মুখপাত্র আরিফুর রহমান তুহিনও একই দিনে জোটে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তুহিন জানান, এনসিপি আটটি ইসলামী দলের সঙ্গে তিনটি মূল লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে জোট গঠন করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই লক্ষ্যগুলো পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, অপরাধীদের ন্যায়সঙ্গত বিচার এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করে।
তুহিনের মতে, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বলতে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর গভীর পরিবর্তনকে বোঝানো হয়েছে, যা দেশের শাসনব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সহায়তা করবে। অপরাধীদের বিচারকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ করার জন্য আইন প্রয়োগ সংস্থার ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। তাছাড়া, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই তিনটি লক্ষ্যকে ভিত্তি করে এনসিপি জোটভুক্ত হওয়ার পর, তুহিন ভবিষ্যতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জোটের সমন্বিত প্রচেষ্টা নির্বাচনের আগে এবং পরে উভয় সময়ে দেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আটটি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কর্নেল অলি আহমেদও ছিলেন। যদিও এনসিপির কোনো নেতা সরাসরি বক্তৃতা দেননি, তবু পার্টির উপস্থিতি জোটের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থন ও সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়। বিবিসি সূত্রে জানানো হয়েছে, এনসিপির নেতৃত্বের কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে কথা বলেননি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, এনসিপির সঙ্গে জোট গঠনের আগে দু’দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে উভয় পক্ষের সমঝোতা স্পষ্ট হয়ে উঠে, এবং এনসিপি রাতের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়। এই বৈঠকটি জোটের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এনসিপি ও এলডিপি যোগদানের ফলে জোটের রাজনৈতিক ও ভোটার ভিত্তি বিস্তৃত হয়েছে, যা আসন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। দশটি দলের সমন্বয় ভোটারদের মধ্যে সমন্বিত বার্তা পৌঁছাতে এবং প্রতিপক্ষের তুলনায় শক্তিশালী বিকল্প উপস্থাপন করতে সক্ষম হবে।
পরবর্তী সময়ে জোটের নেতৃত্বের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনী কৌশল প্রকাশের প্রত্যাশা রয়েছে। তাছাড়া, এনসিপি ও এলডিপি কীভাবে তাদের নিজস্ব সংগঠনগত কাঠামোকে জোটের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। এই সমন্বয় দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মোড় দিতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।



