ঘন কুয়াশা দেশের নৌপরিবহনে গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে, ফলে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআইডব্লিউটিএ) আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে সব নৌপথে লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানের চলাচল স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপ ঢাকার সদরঘাট, বরিশালসহ দেশের প্রধান রিভার পোর্টগুলোকে প্রভাবিত করবে এবং যাত্রীদের জন্য রেল ও সড়ক পরিবহনের ওপর নির্ভরতা বাড়াবে।
বিআইডব্লিউটিএর সমুদ্র নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তা মো. সোলাইমান জানান, কুয়াশার ঘনত্বের কারণে নৌযানের দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়েছে, তাই আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে সব ধরনের লঞ্চ ও বাণিজ্যিক নৌযানকে চলাচল থেকে বিরত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাতিলের কোনো সময়সূচি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ঢাকার সদরঘাট রিভার পোর্টে কোনো যাত্রী লঞ্চ বা অন্যান্য নৌযান চলবে না বলে জানানো হয়েছে। এই পোর্টটি দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত নৌবন্দরগুলোর একটি, যেখানে দৈনিক লক্ষাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করে। কুয়াশা ঘন হওয়ায় নিরাপদে যাত্রা নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বরিশাল রিভার পোর্টের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর জুলফিকর আলি একই রকম নির্দেশনা জানিয়ে বলেন, আজ রাতের জন্য বরিশালের কোনো লঞ্চ চলবে না। তিনি উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তটি সাম্প্রতিক কুয়াশা-সৃষ্ট দুর্ঘটনার পর নেওয়া হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অংশে নৌযানের মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
কুয়াশা-সৃষ্ট দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে ঘটছে। বিশেষ করে শুক্রবার রাত থেকে আজ পর্যন্ত, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং অন্যান্য এলাকায় যাত্রী লঞ্চ ও মালবাহী নৌযানের মধ্যে একাধিক ধাক্কা লেগেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু এবং বিশজনের বেশি আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই জরুরি চিকিৎসা সেবা পেতে পারছেন না, কারণ কুয়াশার কারণে রেসকিউ দলও দ্রুত পৌঁছাতে পারছে না।
দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এবং কুমিল্লার পূবালী চত্বরে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। এই অবরোধগুলো মূলত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সেবা পৌঁছানোর জন্য গৃহীত হয়েছে, যাতে কুয়াশা-সৃষ্ট দুর্ঘটনার পরিণতি কমানো যায়।
নৌপরিবহনের বন্ধের ফলে দৈনন্দিন যাত্রীর উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। অনেক কর্মচারী ও ব্যবসায়িক ব্যক্তি যাঁরা নদীর পথে কাজ করেন, তাঁরা এখন রেল, সড়ক বা বিমান পরিবহনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য। বিশেষ করে ঢাকা-সদরঘাটের মতো ব্যস্ত রুটে যাত্রা করা মানুষদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়, ফলে যাতায়াতের সময়সূচি ও খরচে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং কুয়াশা কমে গেলে নৌপরিবহনের পুনরায় শুরু সম্পর্কে সময়মতো জানাবে। এই সময়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও রেসকিউ টিমকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া, যাত্রীরা যদি নৌযানের পরিবর্তে অন্য কোনো পরিবহন মাধ্যম বেছে নেন, তবে সময়মতো টিকিট বুকিং এবং রুট পরিকল্পনা করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, ঘন কুয়াশা দেশের নৌপরিবহনে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিআইডব্লিউটিএ সব লঞ্চ ও নৌযানের চলাচল স্থগিত করেছে। যাত্রীরা এই সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করে, বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত, যাতে অতিরিক্ত দুর্ঘটনা ও মানবিক ক্ষতি রোধ করা যায়।



