ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী এলাকায় ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের হলরুমে ৫০০ দরিদ্র পরিবারের জন্য শীতকালীন বস্ত্র বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগটি কোরআন সুন্নাহ ফাউন্ডেশন পরিচালনা করেছে, যা স্থানীয় গরিবদের ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল।
বিতরণ অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুল কাইয়ুম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ও কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল হক এবং জেলা জজ কোর্টের এপিপি মাহমুদুর রহমান রনি বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাইদুল ইসলাম সাঈদ অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন, আর সংগঠনের প্রচার সম্পাদক তারেক বিন সামিউল সঞ্চালনা করেন। উভয়েই বিতরণ প্রক্রিয়া তদারকি করে নিশ্চিত করেন যে বস্ত্রগুলো সঠিকভাবে প্রাপকদের হাতে পৌঁছায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল-আমিন, বজলুর উলুম মসজিদ কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসানুর শাহী, কসবা কোরআন সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আমির হোসেন মাস্টার এবং বিভিন্ন উপজেলার দায়িত্বশীল সদস্যগণ। এ সকলের সমন্বয়ে বিতরণ কার্যক্রমটি সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়।
বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৫০০টি কম্বল এবং ২০০টি শিশুর জন্য শীতের কাপড়। এই বস্ত্রগুলো সরাসরি দরিদ্র পরিবারের দরজায় পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে তারা শীতের তীব্র ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পায়।
কোরআন সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ইসলামিক সমাজকল্যাণমূলক অরাজনৈতিক সংস্থা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরণের সহায়তা প্রদান করে আসছে, যার মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মৌলিক জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয়তা অন্তর্ভুক্ত।
শীতের মাসে হিমশীতল তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ফলে গরিব পরিবারের সদস্যদের বিশেষভাবে ঝুঁকি থাকে। যথাযথ শীতবস্ত্র না থাকলে শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হাইপোথার্মিয়া এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই এই ধরনের বিতরণ কর্মসূচি মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেশিরভাগ গ্রাম ও শহরতলিতে গৃহহীনতা ও দারিদ্র্যের হার এখনও উচ্চ। স্থানীয় সরকার ও এনজিওগুলো মিলিত হয়ে শীতকালীন সহায়তা প্রদান করলে সামাজিক নিরাপত্তা জাল শক্তিশালী হয় এবং দুর্বল গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হয়।
বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনগণ বস্ত্র গ্রহণের পর আনন্দের প্রকাশ করেন এবং ফাউন্ডেশনের কাজের প্রশংসা করেন। অনেক পরিবার জানান যে এই বস্ত্রগুলো তাদের শীতের মৌসুমে অমূল্য সহায়তা হবে।
ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিবারকে শীতবস্ত্র প্রদান করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তারা স্থানীয় দাতাদের সহযোগিতা চেয়ে আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে গ্রীষ্ম ও শীত উভয় ঋতুতে দরিদ্রদের জন্য ধারাবাহিক সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।
এই উদ্যোগটি দেখায় যে সরকারী বিভাগ, স্থানীয় প্রেসক্লাব এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সমন্বয় সমাজের দুর্বল স্তরে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। শীতের কঠিন পরিস্থিতিতে যথাযথ প্রস্তুতি এবং সমন্বিত কাজই দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গৃহহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে শীতের সুরক্ষা প্রদান করা এই বিতরণ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য, এবং এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের সংহতি ও সহানুভূতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে রয়ে যাবে।



