20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াতে ইসলামী ৩ জানুয়ারির মহাসমাবেশ স্থগিতের ঘোষণা

জামায়াতে ইসলামী ৩ জানুয়ারির মহাসমাবেশ স্থগিতের ঘোষণা

বাংলাদেশের প্রধান ধর্মীয়-রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ৩ জানুয়ারি নির্ধারিত মহাসমাবেশকে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। দলীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ২৮ ডিসেম্বর রোববার একটি সংবাদ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন।

পরওয়ার জানান, “আগামী ৩ জানুয়ারি দেশের ৯টি কৃষি ও কৃষি‑প্রাধান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫‑২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তাই পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ স্থগিত করা হলো।” ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মহাসমাবেশের মূল আহ্বানটি ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। দলটি শ্রীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচার, অবৈধ অস্ত্রের উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ধরা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেছিল। এই দাবি অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি রাজধানীতে বিশাল সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সমাবেশের সফলতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। প্রথমে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউকে সমাবেশের স্থান হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছিল, তবে পরে তা পরিবর্তন করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নির্ধারণ করা হয়। স্থান পরিবর্তনের পেছনে নিরাপত্তা ও জনসাধারণের সুবিধা বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানা যায়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার নেতৃত্বে সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি সমাবেশের প্রস্তুতির জন্য একাধিক বৈঠক পরিচালনা করে এবং জেলা‑উপজেলা পর্যায় থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঢাকায় আনার পরিকল্পনা করে। সমাবেশের সময়সূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক সমর্থন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দিক থেকে সমন্বয় করা হয়।

তবে ভর্তি পরীক্ষার দিন একই সময়ে নির্ধারিত হওয়ায়, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য সমাবেশটি স্থগিত করা হয়। দলটি উল্লেখ করেছে যে, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় কোনো বাধা না হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি, তাই এই সিদ্ধান্তটি জনমত ও নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য।

মহাসমাবেশের স্থগিত হওয়া জামায়াতে ইসলামীকে তার সংগঠনগত শক্তি পরীক্ষা করার একটি মুহূর্ত এনে দিয়েছে। দলটি এখন কীভাবে পুনরায় সমাবেশের সময়সূচি নির্ধারণ করবে এবং তার দাবিগুলোকে কীভাবে সামনে তুলে ধরবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ।

দলীয় কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে সমাবেশ পুনরায় নির্ধারণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার পরপরই পুনরায় আয়োজনের কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে, তারা শ্রীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত আইনি ও নিরাপত্তা পদক্ষেপের আহ্বান চালিয়ে যাবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াতে ইসলামী তার সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে এবং রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে নতুন কৌশল গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। পরবর্তী সময়ে দলটি কীভাবে তার কার্যক্রম পুনরায় চালু করবে এবং সরকারের সঙ্গে তার দাবিগুলোকে কীভাবে সমন্বয় করবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments