রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২৮ ডিসেম্বর রোববার সরকার বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৪১তম ব্যাচের ছয়জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)কে সরকারি পদ থেকে অপসারণের নির্দেশ জারি করেছে। এই প্রজ্ঞাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষর করেছেন এবং এতে উল্লেখ আছে যে, অপসারিত কর্মকর্তাদের নাম দেলোয়ার হোসেন, মাহমুদুল হক, ইসহাক হোসেন, মশিউর রহমান, মুহাম্মদ রাকিব আনোয়ার এবং সাঈদ করিম মুগ্ধ।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অপসারণের ভিত্তি “বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১”-এর ধারা ৬(২)(এ) অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে। এই বিধান অনুসারে, যদি কোনো শিক্ষানবিশকে তার কর্মস্থলে অব্যাহত থাকা অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়, তবে সরকার কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ না করেও তাকে পদ থেকে বাদ দিতে পারে।
অপসারিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ বা শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, এবং সরকারও অপসারণের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে বিধানিক ভিত্তি উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে, অপসারণের সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এই ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত উচ্চ পর্যায়ের শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের পদত্যাগের পর আইনি পথে আপিল করার অধিকার রাখেন। বিধান অনুসারে, যদি কোনো কর্মকর্তা তার অপসারণকে অন্যায় বলে মনে করেন, তবে তিনি পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা সংশ্লিষ্ট আদালতে আপিল করতে পারেন।
অপসারিত কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বা সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে সাধারণত এমন ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তাদের আইনজীবী আদালতে রায়ের বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতা যাচাইয়ের জন্য আবেদন করেন।
এই ঘটনার পর, সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা তদন্তের নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে জনমত গঠনের জন্য তথ্যের স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৪১তম ব্যাচের এই ছয়জন শিক্ষানবিশ এএসপি-কে অপসারণের সিদ্ধান্তের ফলে পুলিশ সংস্থার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও কর্মক্ষমতার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা বা আপডেট পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



