গানমা প্রশাসনিক এলাকার কান-এটসু এক্সপ্রেসওয়েতে তুষারপাতের সতর্কতা চলাকালীন একটি বিশাল সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানায়, এই ঘটনার ফলে অন্তত পঞ্চাশটি গাড়ি একে অপরকে ধাক্কা মারতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ছাবিশজন আহত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে দু’টি ট্রাকের মুখোমুখি ধাক্কা লেগে গিয়ে উভয় গাড়ি অগ্নিকাণ্ডে জ্বলে ওঠে। গরম গ্যাস ও তেল ছড়িয়ে পড়ার ফলে দ্রুতই অগ্নিকাণ্ড বিস্তৃত হয়।
বরফে পিচ্ছিল রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেখা দেয়; পেছনে আসা গাড়িগুলো ব্রেক করতে না পেরে একের পর এক ধাক্কা খায়। ফলে মোট পঞ্চাশেরও বেশি গাড়ি একে অপরকে আঘাত করে, ট্রাফিক জ্যাম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
আগুনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের প্রবাহে অগ্নিকাণ্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, কমপক্ষে দশটি গাড়ি ধারাবাহিকভাবে পুড়ে যায়। এই ধ্বংসাবশেষের মধ্যে টোকিওর ৭৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত হন।
অন্য একটি মৃতদেহ জ্বলে যাওয়া ট্রাকের চালকের সিটে পাওয়া যায়। মোট পাঁচজনকে গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট করা হয়েছে, আর বাকি একুশজনকে হালকা আঘাতের শিকার হিসেবে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় এলাকায় আবহাওয়া দপ্তরের ভারী তুষারপাতের সতর্কতা জারি ছিল। বড়দিনের পর থেকে জাপানে তীব্র তুষারপাত শুরু হওয়ায় রাস্তাগুলো বরফে আচ্ছন্ন এবং পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল।
স্থানীয় পুলিশ উল্লেখ করেছে, রাস্তায় বরফের স্তরই প্রধান কারণ বলে তারা বিশ্বাস করে। অগ্নি নিভাতে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা সময় লেগেছে, যা ঘটনাস্থলে শীতল পরিবেশের কঠিনতা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে এক্সপ্রেসওয়ের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলমান। এই কাজের কারণে মহাসড়কের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস্তাটি পরিচালনাকারী নেক্সকো কোম্পানি ব্যবহারকারীদেরকে এই সময়ে মহাসড়ক ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে।
পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ এখনো ঘটনাস্থল পরিদর্শন চালিয়ে যাচ্ছে এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ত্রুটি, গাড়ির ব্রেক সিস্টেমের অবস্থা এবং তুষারপাতের সতর্কতা মান্য না করা ইত্যাদি বিষয়গুলো তদন্তের মূল দিক হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে স্থানীয় আদালতকে মামলার তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে বিবরণ সংগ্রহের পর, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য রায় জারি করা হবে।
এই ধরনের বড় আকারের সড়ক দুর্ঘটনা শীতকালে গাড়ি চালানোর সময় সতর্কতার গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে। কর্তৃপক্ষ গাড়ি চালকদেরকে তুষারপাতের সময় গতি কমিয়ে, দূরত্ব বজায় রাখতে এবং জরুরি সিগন্যালের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছে।



