শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতের গলাচিপা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট মত প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়ে দেন, বিএনপি ছাড়া কোনো দল ক্ষমতায় এসে দেশের শাসন‑ব্যবস্থা স্থিতিশীলভাবে চালাতে পারবে না।
সভায় উপস্থিত বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা নুরুল হক নুরকে সমর্থন জানিয়ে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এদিকে, নুরুল হক নুর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজবের প্রতি সতর্কতা জানান এবং গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে দুইটি আসন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শীঘ্রই পরিষদের সদস্যরা দেখবে, বিএনপি কীভাবে তাদের মূল্যায়ন করবে। নুরুল হক নুর তাড়েক রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাড়েকের কথায় তিনি বিশ্বাস রাখেন এবং তাদের মধ্যে গৃহীত কোনো প্রতিশ্রুতি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দীর্ঘ আন্দোলন‑সংগ্রামের মাধ্যমে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের কথা তিনি জোর দিয়ে বলেন। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার হলেও, অরাজনৈতিক গোষ্ঠী যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আন্দোলন চালায়, তবে রাষ্ট্র গভীর সংকটে পড়তে পারে, এটাই তার সতর্কতা।
নুরুল হক নুরের মতে, শুধুমাত্র নির্বাচনই সমস্যার সমাধান নয়। তিনি ৩১ ধাপের রাষ্ট্র সংস্কার অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আগামী পাঁচ বছরে স্থিতিশীল শাসনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। এই সংস্কার পরিকল্পনা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, নাগরিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম বাড়িয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কেন্দ্রীভূত।
তিনি ব্যক্তিগতভাবে কতটি আসন জিতেছেন বা দল কতটি জিতেছে, তা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। নুরুল হক নুরের মতে, দেশের মানুষ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই কোনো ভাগ‑বাটোয়ারার প্রশ্ন নেই; জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তিনি এবং তার দল ভবিষ্যতে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে ইচ্ছুক।
বিএনপি পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে পূর্বে দলের আইন উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাওয়া তাদের লক্ষ্য নয়, যা নুরুল হক নুরের মন্তব্যের সঙ্গে কিছুটা পারস্পরিক সম্পর্ক নির্দেশ করে।
গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়া দুইটি আসন নিয়ে বিভ্রান্তি সত্ত্বেও, নুরুল হক নুর আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় সাধন সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অশান্তিকর তথ্যের প্রভাব কমাতে উভয় দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যন্ত গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে, নুরুল হক নুরের বক্তব্যে দেখা যায়, তিনি পার্টির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা বজায় রাখতে ইচ্ছুক। এই সহযোগিতা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জোর দেন।
অরাজনৈতিক গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রতিবাদ ও আন্দোলনকে দেশীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। এ ধরনের প্রতিবাদ যদি সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে, তবে তা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে, এটাই তার মূল উদ্বেগ।
নুরুল হক নুরের মতে, ৩১ ধাপের রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি স্থিতিশীল সরকার অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিকল্পনা দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পরিবেশকে শক্তিশালী করবে।
শেষে, নুরুল হক নুর জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে দেশের সার্বিক স্বার্থই প্রধান। তিনি এবং তার দল, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, ভবিষ্যতে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে প্রস্তুত, এটাই তাদের সিদ্ধান্ত।



