শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মাধ্যমিক স্তরের সব বই জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত বিতরণ করা সম্ভব হতে পারে। এ লক্ষ্যে শিক্ষাবছরের শুরুতে বই হাতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে, তবে সম্পূর্ণ বিতরণে অতিরিক্ত সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই বিষয়টি প্রকাশের জন্য রবিবার দুপুরে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর অডিটোরিয়ামে একটি অনলাইন ভার্সন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয় এবং ভবিষ্যৎ বিতরণ পরিকল্পনা নিয়ে ধারণা শেয়ার করা হয়।
উপদেষ্টা আবরার বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পাঠ্যবই সংক্রান্ত কাজগুলো বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক বই শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছাতে দলটি কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন জানান, সকলের কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ কাজটি এখন শেষের দিকে পৌঁছেছে। তিনি উল্লেখ করেন, জানুয়ারি এক তারিখের মধ্যে মোট বইয়ের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বিতরণ করা হবে, বাকি অংশও জানুয়ারি মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২৯ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৫৬৬ কপি বই মুদ্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক, দাখিল, কারিগরি শাখার ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ১৮ কোটি ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪০ কপি বই মুদ্রিত হবে।
এনসিটিবি প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির প্রায় ১০ কোটি বই এখনও প্রস্তুতির শেষ ধাপে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রাথমিক স্তরের প্রায় আট কোটি পাঁচ লাখের বেশি বই ইতিমধ্যে মুদ্রণ, বাঁধাই ও কাটিং সম্পন্ন করে উপজেলা পর্যায়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব রফিকুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সবাই মিলিতভাবে বই বিতরণ প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন।
শিক্ষার্থীর পরিবার ও শিক্ষকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: বই বিতরণ শিডিউল সম্পর্কে স্থানীয় শিক্ষা অফিসের বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত অনুসরণ করুন, এবং বই হাতে পাওয়ার পর তার তালিকা যাচাই করে নিন। কোনো বই অনুপস্থিত থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট অফিসে জানিয়ে সমাধান চাওয়া উচিত।
শিক্ষা ব্যবস্থার এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে সময়মতো বিতরণ এবং শিক্ষার্থীর হাতে সঠিক বই পৌঁছানোর উপর। আপনি কি আপনার সন্তান বা শিক্ষার্থীর জন্য বই সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন? মন্তব্যে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।



