গণঅধিকার পরিষদের নতুন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাসান আল মামুনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পদটি শূন্য হয়ে যাওয়ার কারণ হল মো. রাশেদ খান তার পদত্যাগের পর বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টিতে যোগদান করেছেন। এই পরিবর্তনটি রবিবার দলটির অফিসিয়াল প্রেস রিলিজে জানানো হয়।
মো. রাশেদ খান, যিনি পূর্বে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তিনি সম্প্রতি পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তার এই পদত্যাগ পার্টির অভ্যন্তরে মিডিয়া বিভাগে একটি শূন্যস্থান তৈরি করে, যা দ্রুত পূরণ করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।
হাসান আল মামুন, যিনি আগে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছিলেন, এখন নতুন দায়িত্বে আসছেন। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে এই পদে উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে। তিনি পূর্বে পার্টির বিভিন্ন মিডিয়া প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
দলটির গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ রবিবারের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শনিবার রাতের ভার্চুয়াল বৈঠকে নীতিনির্ধারকরা একমত হয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বৈঠকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে গণঅধিকারের উচ্চতর পরিষদ, নির্বাহী কমিটি এবং বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন। সকল সদস্যের সম্মতিতে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়, যা পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে দৃঢ় করে। এই বৈঠকের ফলাফল হিসেবে হাসান আল মামুনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদটি পার্টির প্রকাশনা, সংবাদ প্রকাশনা এবং মিডিয়া নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব বহন করে। এই দায়িত্বে তিনি পার্টির বার্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজের তত্ত্বাবধান করবেন। এছাড়া তিনি মিডিয়া দলকে সমন্বয় ও পরিকল্পনা করার দায়িত্বে থাকবেন।
হাসান আল মামুনের এই নতুন দায়িত্বে নিযুক্তি পার্টির অভ্যন্তরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদটি এখন শূন্য, তবে পার্টি নেতৃত্বের মতে নতুন দায়িত্বে তিনি দ্রুতই সেই ফাঁকটি পূরণ করবেন।
এই পরিবর্তন পার্টির মিডিয়া কৌশলকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে পার্টি সূত্রে বলা হয়েছে যে এটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে সুসংহত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। নতুন সম্পাদক হিসেবে তিনি পার্টির প্রকাশনা কার্যক্রমকে আধুনিকীকরণে মনোযোগ দেবেন।
হাসান আল মামুনের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি পার্টির বিভিন্ন প্রকাশনা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের তত্ত্বাবধান শুরু করবেন। এছাড়া তিনি মিডিয়া ইউনিটের প্রধানদের সঙ্গে সমন্বয় করে পার্টির বার্তা প্রেরণের পদ্ধতি উন্নত করবেন।
গণঅধিকার পরিষদের এই নেতৃত্ব পরিবর্তন পার্টির ভবিষ্যৎ মিডিয়া পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন সম্পাদককে স্বাগত জানিয়ে পার্টি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আশাবাদী মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা পার্টির যোগাযোগ নীতি শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়।



