ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি-র নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই পদবিন্যাসের অনুমোদন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ১৮ ডিসেম্বর দিয়েছে। ডিএসই একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করে, যা বাজারে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
নুজহাত আনোয়ারের আর্থিক বাজার, ব্যাংকিং এবং উন্নয়ন অর্থায়নে দুই দশকেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার ক্যারিয়ার শুরুতে তিনি সিটি ব্যাংক বাংলাদেশ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশে মোট ১৬ বছর বিভিন্ন সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট পদে কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি মূলধন ব্যবস্থাপনা, ট্রেজারি ও লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্টসহ ট্রানজ্যাকশন সার্ভিসেসে দক্ষতা অর্জন করেন।
ডিএসই-তে যোগদানের আগে নুজহাত আনোয়ার বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)-এ কর্মরত ছিলেন। আইএফসিতে তিনি আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে উচ্চপদস্থ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বের মধ্যে ছিল লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনের আবাসিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা, পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের জন্য সিনিয়র কান্ট্রি অফিসার হিসেবে নীতি নির্ধারণ।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় নুজহাত আনোয়ার ক্লাস্টার ম্যানেজার হিসেবে জরুরি সংকট ব্যবস্থাপনা তত্ত্বাবধান করেন, যা তার সংকটমুখী নেতৃত্বের ক্ষমতা তুলে ধরে। এছাড়া তিনি বতসোয়ানা ও নামিবিয়ার আইএফসি কান্ট্রি অফিসার হিসেবে কাজ করে, গ্যাবোরনে আইএফসির কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা এবং বতসোয়ানায় প্রথম টেকসই বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তার পেশাগত দক্ষতার মধ্যে ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, পোর্টফোলিও অপ্টিমাইজেশন, মার্কেট অ্যাডভোকেসি এবং আর্থিক সেবা উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত। এসব দক্ষতা ডিএসই-র বাজার কাঠামো ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ আনতে পারে। বিশেষ করে, তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক ডিএসইকে বৈশ্বিক মূলধন প্রবাহের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
নুজহাত আনোয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে (ফিন্যান্স) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। একাডেমিক পটভূমি ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় তাকে আর্থিক বাজারের জটিলতা বিশ্লেষণে সক্ষম করে। তার নেতৃত্বে ডিএসই শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা, লিকুইডিটি এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে নতুন নীতি প্রণয়ন করতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে ডিএসই শেয়ার লেনদেনের ভলিউম ও মূল্য স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে। তার ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ডিএসই সম্ভাব্যভাবে লিকুইডিটি ঘাটতি মোকাবিলায় তহবিল সংগ্রহের নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করতে পারে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ বাড়াতে বাজারের নিয়মাবলী আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
তবে, পরিবর্তনের সময় ঝুঁকি এড়াতে অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন হবে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে ডিএসইকে শেয়ারহোল্ডার অধিকার রক্ষা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রকাশনা মানদণ্ড উন্নয়ন এবং বাজারের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এই ধরনের সংস্কার না হলে বিনিয়োগকারীর আস্থা হ্রাস পেতে পারে এবং বাজারের অস্থিরতা বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, নুজহাত আনোয়ার ডিএসই-র নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদান দেশের মূলধন বাজারে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক সংযোগের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তার দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ডিএসইকে আধুনিকায়ন, লিকুইডিটি উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়। তবে সফলতা অর্জনের জন্য অভ্যন্তরীণ কাঠামো শক্তিশালী করা এবং বাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



