জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির ১৭০ সদস্য ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামায়াত‑ইসলামি সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। পার্টির সমন্বয়কারী নাহিদ ইসলামকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে চিঠি ও বার্তা পাঠিয়ে এই সমর্থন জানানো হয়েছে।
এনসিপি যৌথ প্রধান সমন্বয়কারী মো. আরিফুর রহমান তুহিনের মতে, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সদস্যরা গ্রুপে একে একে সমর্থনের চিঠি পাঠাচ্ছেন। আজ পর্যন্ত ১৭০ জনের মধ্যে ১২২ জন আলাদা চিঠি জমা দিয়েছেন, বাকি সদস্যদের কাছ থেকে সমর্থন প্রত্যাশিত।
তুহিন উল্লেখ করেন, “আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জোটের পক্ষে চিঠি পাঠিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১৭০ জনের সমর্থন নিশ্চিত, যার মধ্যে ১২২ জন পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, বাকি সদস্যরাও শীঘ্রই মতামত জানাবে।
পার্টির অভ্যন্তরে এই সমর্থনমূলক প্রচারণা শুরু হয় যখন ৩০ জন নেতার নামের তালিকা প্রকাশিত হয়, যারা জোটের বিরোধিতা করেছিল। তালিকাটি প্রকাশের পর, সমর্থকরা সক্রিয়ভাবে চিঠি ও বার্তা পাঠিয়ে জোটের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করেন।
সমর্থন জানানো নেতাদের মধ্যে সিনিয়র যৌথ সমন্বয়কারী আরিফুল ইসলাম আদিব, সারোয়ার তুষার, ড. আতিক মুজাহিদ, জাভেদ রসিন, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, এতেশাম হক, যৌথ প্রধান সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান তুহিন, সিনিয়র যৌথ প্রধান সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, আতাউল্লাহ, মাহমুদা মিতু, আলি নাসের খান এবং মাহিন সরকারসহ আরও কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত।
প্রেরিত চিঠিগুলোতে পার্টির আদর্শ, লক্ষ্য ও কৌশলগত অবস্থান রক্ষার জন্য সময়োপযোগী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া, আসন্ন জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল শাসনকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
নেতারা একত্রে জোর দিয়ে বলেছেন, “দলীয় স্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্যের আলোকে, আমরা এনসিপি যে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা গড়ে তুলতে চায়, তা সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করি।” এই বক্তব্যে জোটের সম্ভাব্যতা ও পার্টির কৌশলগত দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সমন্বয়কারী ও সদস্য সচিবের অনুমোদিত যে কোনো জোট বা নির্বাচনী ব্যবস্থা পার্টির ঐক্য বজায় রাখবে এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি শক্তিশালী করবে। পার্টির নেতৃত্বের দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা দলকে একত্রে রাখবে বলে তারা আশাবাদ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই সমর্থনমূলক আন্দোলন এনসিপি-জামায়াত জোটের সম্ভাব্যতা বাড়িয়ে তুলবে এবং আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে উভয় দলের ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। তবে জোটের চূড়ান্ত রূপায়ণ এখনও সমন্বয়কারীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
পরবর্তী সময়ে পার্টি সমন্বয়কারী নাহিদ ইসলাম জোটের শর্তাবলী ও কৌশলগত পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে জানা যায়। এই আলোচনার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে, বিশেষত নির্বাচনের আগে জোটের গঠন ও ভোটার সংযোগের ক্ষেত্রে।



