বাংলাদেশের টেক্সটাইল মিল সমিতি (BTMA) আজ গুলশান ক্লাব, ঢাকায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে যে দেশীয় স্পিনাররা বর্তমানে বিশাল পরিমাণে অমিলিত সুতোয়ের সঞ্চয় নিয়ে সংগ্রাম করছে। এই সঞ্চয় প্রায় টাকার ১২০০ কোটি মূল্যের এবং সরবরাহ চেইনের অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে।
সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উৎপাদন খরচের ধারাবাহিক বৃদ্ধি স্পিনারদের আর্থিক চাপকে তীব্র করেছে। কাঁচামাল, শক্তি ও শ্রমের দাম সাম্প্রতিক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ফলে প্রতি কিলোগ্রাম সুতো উৎপাদনের খরচ পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় উৎপাদনকারীরা ভারতের কাছ থেকে সস্তা সুতো আমদানি করা ব্যবসায়িকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারছে না, কারণ ভারতীয় সরবরাহকারীরা কম দামে সুতো সরবরাহ করতে সক্ষম। এই মূল্য পার্থক্য স্থানীয় বাজারে বিক্রয়মূল্যকে কমিয়ে দেয় এবং মজুদ বাড়িয়ে দেয়।
BTMA-এর নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই পরিস্থিতি দেশীয় স্পিনারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি তৈরি করছে। অমিলিত মজুদ বাড়ার ফলে নগদ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার কমে যাচ্ছে।
বাজারে সরবরাহের অতিরিক্ততা এবং চাহিদার স্থবিরতা মিলিত হয়ে সুতোয়ের দাম নিচের দিকে চাপ দিচ্ছে। ফলে, ছোট ও মাঝারি আকারের স্পিনারদের লাভের মার্জিন সংকুচিত হচ্ছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি সরাসরি বস্ত্র শিল্পের downstream সেক্টরগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলছে। কাপড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সস্তা সুতো সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা শেষ পণ্যের মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
BTMA উল্লেখ করেছে যে, সরকারী নীতি সমর্থন ছাড়া এই সমস্যার সমাধান কঠিন। তারা রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং স্থানীয় উৎপাদনকে সাশ্রয়ী করতে নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যদি মজুদ নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে শিল্পের কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে। স্পিনারদের উৎপাদন হ্রাসের ফলে শ্রমিকদের কাজের সময় কমে যাওয়া এবং বেকারত্বের হার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, রপ্তানি ভিত্তিক বস্ত্র উৎপাদনকারীরা এই মজুদ সমস্যাকে সুযোগে রূপান্তরিত করতে পারলে বাজারের চাহিদা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে। তবে তা জন্য সুতোয়ের দামকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে।
BTMA ভবিষ্যৎ কয়েক মাসে মজুদ হ্রাসের জন্য বাজারের চাহিদা উদ্দীপনা এবং মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, সুতোয়ের দাম স্থিতিশীল না হলে উৎপাদন পুনরায় বাড়ানো কঠিন হবে।
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মজুদ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
উল্লেখযোগ্য যে, BTMA-এর এই বিবৃতি শিল্পের বিভিন্ন স্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নীতি নির্ধারকদের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
অবশেষে, শিল্পের স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষার জন্য সমন্বিত নীতি, বাজারের স্বচ্ছতা এবং উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য বলে সমিতি জোর দিয়েছে।



