অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফটো ও আইরিস স্ক্যান ইত্যাদি না দিলে আবেদন সরাসরি বাতিল হতে পারে। এই নতুন শর্তের তথ্য ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা হাইকমিশনের বার্তায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে।
বায়োমেট্রিক তথ্য বলতে আবেদনকারীর শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যেমন আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি ও চোখের রেটিনা স্ক্যান অন্তর্ভুক্ত। ইমিগ্রেশন বিভাগ এই ডেটা নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করে এবং ভিসা প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে সংগ্রহের অনুরোধ জানায়। আবেদনকারীকে এই তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রদান করতে হয়, অন্যথায় আবেদন প্রক্রিয়া থেমে যায়।
বায়োমেট্রিক জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার অনুমোদিত বায়োমেট্রিক কালেকশন সেন্টার (ABCC) তে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে হয়। বিদেশে থেকে আবেদন করলে, ভিসা অনুমোদনের আগে নির্ধারিত সেন্টারে গিয়ে তথ্য সম্পন্ন করতে হবে; অন্য কোনো পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং, আবেদনকারীকে ভ্রমণ পরিকল্পনা করে সেন্টারের সময়সূচি অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করতে হবে।
যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক তথ্য না দেয়া হয়, ইমিগ্রেশন বিভাগ কোনো ব্যাখ্যা চাওয়া ছাড়াই আবেদন বাতিলের অধিকার রাখে। এই সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেওয়া হয় এবং আবেদনকারীকে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ না-ও দেওয়া হতে পারে। ফলে, বায়োমেট্রিক না প্রদান করা সরাসরি ভিসা প্রত্যাখ্যানের দিকে নিয়ে যায়।
বায়োমেট্রিক না দিলে ভিসা প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য দেরি ঘটতে পারে। আবেদনকারীকে পুনরায় নিজের দেশে ফিরে এসে সেন্টারে গিয়ে তথ্য জমা দিতে হতে পারে, যা অতিরিক্ত সময় ও আর্থিক ব্যয় বাড়ায়। এছাড়া, ভিসা অনুমোদন না পেলে শিক্ষার পরিকল্পনা ব্যাহত হয় এবং স্কলারশিপ বা ভর্তি প্রক্রিয়াতেও প্রভাব পড়ে।
ঢাকার অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন ২৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত বার্তায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই শর্ত সম্পর্কে সতর্ক করেছে। বার্তায় বলা হয়েছে, যদি আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করে এবং বায়োমেট্রিকের প্রয়োজন হয়, তবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের আগে নির্ধারিত ABCC তে গিয়ে তা সম্পন্ন করতে হবে। হাইকমিশন জোর দিয়ে বলেছে, এই প্রক্রিয়া না করলে ভিসা আবেদন বাতিলের ঝুঁকি বাড়ে।
প্রার্থীদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: প্রথমে ইমিগ্রেশন অফিসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বায়োমেট্রিকের প্রয়োজনীয়তা ও সময়সীমা যাচাই করুন। স্লট বুকিং সিস্টেমের মাধ্যমে দ্রুত সময় নির্ধারণ করুন এবং পাসপোর্ট, সাম্প্রতিক ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে রাখুন। ভিসা আবেদন করার আগে এই ধাপগুলো সম্পন্ন করলে পুনরায় দেশে ফিরে আসার ঝুঁকি কমে।
সারসংক্ষেপে, বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হতে পারে, তাই সময়মতো সেন্টারে গিয়ে তথ্য প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। এই শর্তের ফলে শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।
আপনার কি বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন আছে, নাকি ভিসা আবেদন নিয়ে অন্য কোনো উদ্বেগ রয়েছে? মন্তব্যে জানিয়ে দিন, যাতে আমরা আরও তথ্য শেয়ার করতে পারি।



