ব্রাজিলের প্রাক্তন রিয়াল মাদ্রিদের বাম‑ফুল‑ব্যাক মার্সেলো, স্প্যানিশ গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসের ‘আন্ডার দ্য গোলপোস্টস’ পডকাস্টে নিজের ফিটনেস নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট কথা বলেন। তিনি জানান, রিয়ালে ১৯ বছর ধরে মাঠে দৌড়ালেও জিমে যাওয়া বা ডায়েট মেনে চলা কখনোই তার অগ্রাধিকার ছিল না।
মার্সেলো ২০০১ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন এবং পরবর্তী দুই দশকে ক্লাবের সঙ্গে বহু লিগ শিরোপা, ইউইফা চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং অন্যান্য ট্রফি জিতে নেন। তার আক্রমণাত্মক পাস, ড্রিবল এবং ফ্রি‑কিকের দক্ষতা তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রিয় বাম‑ফুল‑ব্যাক করে তুলেছিল। তবে তার শারীরিক গঠন সবসময় সমালোচনার মুখে পড়েছে। রিয়ালের খারাপ ফলাফল দেখা দিলে সমালোচকরা প্রায়ই তার ওজনের দিকে ইঙ্গিত করে ‘ভুঁড়ি’ শব্দটি ব্যবহার করতেন।
এই সমালোচনার মুখে মার্সেলো শেষ পর্যন্ত নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। পডকাস্টে তিনি বলেন, “আমি কখনোই প্রচলিত অর্থে অ্যাথলেটিক না। জীবনের আনন্দ উপভোগ করাই আমার মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষণ অবশ্যই করতাম, তবে জিমে নিয়মিত যাওয়া বা ডায়েট মেনে চলা আমার স্বভাবের অংশ ছিল না।” তার এই স্বীকারোক্তি রিয়ালের ঐতিহাসিক উত্থান-পতনের সময়ে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গড়ে ওঠা গুজবকে নতুন দৃষ্টিকোণ দেয়।
মার্সেলো আরও যোগ করেন, ক্যারিয়ারের শেষের দিকে তিনি নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি কিছুটা মনোযোগ দিতে শুরু করেন, তবে তার খেলার ধরনে কোনো বড় পরিবর্তন আনা হয়নি। “ওজন নিয়ে কথা বলা রিয়াল যখন হারে তখন স্বাভাবিক। আমি সেটা মেনে নিয়েছি,” তিনি সংক্ষেপে বলেন। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, যদিও তিনি শারীরিক দিক থেকে সমালোচনার শিকার হন, তবু মাঠে তার পারফরম্যান্স এবং ট্যাকটিক্যাল অবদানকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
আধুনিক ফুটবলে ফিটনেসের গুরুত্ব অপরিসীম। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উদাহরণে দেখা যায়, ৪০ বছর বয়সেও কঠোর ডায়েট, জিম ট্রেনিং এবং পুনরুদ্ধার প্রোটোকল অনুসরণ করে তিনি শীর্ষ স্তরে পারফর্ম করছেন। রোনালদোর এই পদ্ধতি ফিটনেসকে পারফরম্যান্সের মূল চাবিকাঠি হিসেবে তুলে ধরে, যেখানে মার্সেলোর পদ্ধতি ছিল বেশি স্বতঃস্ফূর্ত এবং আনন্দমুখী।
মার্সেলোর স্বীকারোক্তি ফুটবলের দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে: একদিকে কঠোর শারীরিক শৃঙ্খলা, অন্যদিকে স্বাভাবিক জীবনযাপন। যদিও রিয়ালের সমালোচকরা তার ওজনকে দোষারোপ করলেও, মার্সেলো তার ক্যারিয়ার জুড়ে ক্লাবের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার আক্রমণাত্মক পদ্ধতি, ফ্রি‑কিকের দক্ষতা এবং ডিফেন্সে আক্রমণাত্মক সমর্থন রিয়ালের বহু শিরোপা জয়ের পেছনে ছিল।
মার্সেলোর কথায় স্পষ্ট যে, ফুটবলে শারীরিক প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সের সম্পর্ক একমাত্রিক নয়। তিনি স্বীকার করেন যে, শেষের দিকে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি কিছুটা যত্ন নেওয়া সঠিক পদক্ষেপ, তবে তার মৌলিক খেলার ধরন পরিবর্তন করেননি। এই দৃষ্টিভঙ্গি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি বিকল্প মডেল হতে পারে, যেখানে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আনন্দ এবং স্বাচ্ছন্দ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া যায়।
রিয়াল মাদ্রিদে তার শেষ মৌসুমে মার্সেলো দলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অংশ নেন, যদিও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকে। তবে তার অবদান এবং ক্লাবের ইতিহাসে তার স্থান অটুট রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে তিনি ফুটবলের বাইরে কী ভূমিকা নেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি এবং ক্যারিয়ার গঠন পদ্ধতি ক্রীড়া জগতে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
ফুটবলের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, মার্সেলোর মতো খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে শারীরিক প্রস্তুতি এবং পারফরম্যান্সের সম্পর্ককে একদিকেই না গিয়ে, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং পেশাদারিত্বের সমন্বয় হিসেবে দেখতে হবে। তার উদাহরণে দেখা যায়, কঠোর ডায়েট ও জিম রেজিম না থাকলেও উচ্চ স্তরের টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং ম্যাচে প্রভাবশালী উপস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব।
সারসংক্ষেপে, মার্সেলো রিয়ালের জন্য ১৯ বছর ধরে শীর্ষ স্তরে খেললেও, ফিটনেসের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ স্বতন্ত্র ছিল। তিনি স্বীকার করেন যে, ওজন নিয়ে সমালোচনা রিয়ালের পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তবে তার মূল লক্ষ্য ছিল মাঠে আনন্দের সঙ্গে খেলতে পারা। তার এই স্বতন্ত্র পদ্ধতি আধুনিক ফুটবলের কঠোর শারীরিক মানদণ্ডের বিপরীতে একটি বিকল্প দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।



