শাহবাগ চত্বর, ঢাকা – ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও কর্মীরা আজ বিকেলে শহরের প্রধান চত্বর শাহবাগে প্রতিবাদে বাধা সৃষ্টি করে, শারিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ন্যায়বিচার চায়। প্রতিবাদটি বিকেল ২ টার দিকে শুরু হলেও, সকাল ১১ টার আগে ইতিমধ্যে পার্শ্ববর্তী রাস্তায় অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান শোনিয়ে অবস্থান নেয়। হাদি, যিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, গত বছর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন; তার মৃত্যুর পর থেকে ন্যায়বিচারের দাবি ধারাবাহিকভাবে তীব্র হয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা শুক্রবার থেকে শাহবাগ চত্বর দখল করে রেখেছিলেন এবং শীতল বাতাসের মাঝেও রাতারাতি বসে থাকা সিট-ইন চালিয়ে গেছেন। গত রাতের শেষভাগে, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ঘোষণা অনুযায়ী, আন্দোলনকে রাজধানীর বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতেও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা জানানো হয়। এই ঘোষণার পর, অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে এসে চত্বরের মূল স্থানে পুনরায় অবস্থান নেন।
গতকাল রাত ১১ টার দিকে পরিবেশ উপদেষ্টা সায়েদা রিজওয়ানা হাসান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলি চত্বর পরিদর্শন করেন। দুইজনই উপস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদকারীদের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে দেন। উপদেষ্টা জানান, বর্তমান অস্থায়ী সরকার দ্রুত চার্জ শিট প্রস্তুত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দিকে কাজ করছে এবং হত্যাকারী ও পেছনের পরিকল্পনাকারী উভয়কে সনাক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবাদকারীরা সরকারী ঘোষণাকে যথেষ্ট না বলে, ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করেন। ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্য নঈম ইসলাম বলেন, প্রশাসনের বক্তব্য কেবল মুখোশের মতো এবং সময় নষ্ট করার চেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, গুলির দিনেই অপরাধীদের গ্রেফতার করা সম্ভব ছিল, তবে তা না হওয়ায় জনগণকে সন্দেহের মুখে দাঁড়াতে হচ্ছে।
নঈম ইসলাম আরও দাবি করেন, সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে কে কাকে প্রভাবিত করছে। যদিও সরকার গ্রেফতার হয়েছে বলে দাবি করে, প্রকৃত হত্যাকারীকে না ধরলে ন্যায়বিচার অর্জন সম্ভব নয়। এই বক্তব্যের পর, ডিএমপি কমিশনার অতিরিক্তভাবে জানান, পুলিশ, বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিবিজি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (রাব) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই মামলায় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ইনকিলাব মঞ্চের এই প্রতিবাদটি শুধুমাত্র শাহবাগে সীমাবদ্ধ নয়; জাবেরের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে বিভাগীয় শহরগুলোতেও একই রকম বাধা ও সিট-ইন কার্যক্রম চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের বিস্তৃত প্রতিবাদ রাজনৈতিক পরিবেশে চাপ বাড়াতে পারে এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।
অধিকন্তু, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, তদন্তে অগ্রগতি থাকলেও তথ্যের স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি বলছেন, যদি তদন্তের ফলাফল দ্রুত প্রকাশ না হয়, তবে জনমত আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
শাহবাগে প্রতিবাদকারীদের উপস্থিতি এবং তাদের দৃঢ়সঙ্কল্পের ফলে, শহরের ট্রাফিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা করতে সচেষ্ট।
এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন এক মোড় তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন সরকারকে অপরাধী দায়িত্বে আনার জন্য জনসাধারণের চাপ বাড়ছে। ইনকিলাব মঞ্চের দাবি যদি পূরণ না হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ প্রতিবাদ ও বাধা কার্যক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে।



