22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকগাজা উপত্যকায় তীব্র ঝড়ে বাড়ি ধসে নারী নিহত, হাজার হাজার তম্বু ভাসমান

গাজা উপত্যকায় তীব্র ঝড়ে বাড়ি ধসে নারী নিহত, হাজার হাজার তম্বু ভাসমান

গাজা উপত্যকায় রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তীব্র বৃষ্টিপাত ও প্রবল বাতাসের ফলে একটি পুরনো বাড়ির দেয়াল ধসে ৩০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নারীর তম্বুর ওপর পড়ে, যার ফলে তিনি প্রাণ হারান। একই সময়ে, গাজার বিভিন্ন স্থানে ভাসমান শিবিরের তম্বু ভাসমান জলের দ্বারা ডুবে যায়, বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আল-রিমাল এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ির প্রাচীর দুর্বল হয়ে গিয়ে তম্বুর ওপর পড়ে। আহতদের মধ্যে নারীর পরিবারভুক্ত কয়েকজন অন্তর্ভুক্ত, তবে মৃত্যুর খবর শুধুমাত্র ওই নারীরই নিশ্চিত হয়েছে।

গাজার দক্ষিণে খান ইউনিসের সমুদ্রতীরবর্তী শিবিরে স্থাপিত শত শত তম্বু নিম্নচাপের কারণে উত্থিত সমুদ্র ঢেউয়ে ভাসমান হয়ে যায়। তীব্র বাতাসের সঙ্গে সমুদ্রের উচ্চ জোয়ার তম্বুগুলোকে সমুদ্রের দিকে টেনে নিয়ে যায়, ফলে শিবিরের বাসিন্দারা তীব্র কষ্টের মুখোমুখি হন।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, গত রাত থেকে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র বাতাস গাজা জুড়ে হাজার হাজার শিবিরের তম্বুকে ভাসমান করে তুলেছে। তম্বু ভাসমান হওয়ায় শিবিরের মৌলিক সেবা, যেমন পানি, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাহত হয়েছে।

গাজার শিবিরে বসবাসরত মানুষদের অধিকাংশই ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলার ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন। এই সময়ে তীব্র আবহাওয়া শিবিরের বাসিন্দাদের জন্য অতিরিক্ত বিপদ সৃষ্টি করেছে, যা মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ইসরায়েলি হামলার ফলে গাজায় মোট ৭১,২০০ের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা ১,৭১,২০০েরও বেশি, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর রিপোর্টে উল্লেখিত। এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে সঙ্গে গাজার অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী গাজায় অবিলম্বে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “বৃষ্টির ফলে শিবিরের তম্বু ভাসমান হওয়া মানবিক সংকটকে তীব্রতর করেছে; ত্বরিত তম্বু পুনর্নির্মাণ ও নিরাপদ শিবির স্থাপন জরুরি।” এই মন্তব্য গাজার মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে তুলে ধরে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক বিষয়ক প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে গাজার শিবিরে অতিরিক্ত তম্বু ও জরুরি সরবরাহ পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলছেন, “বৃষ্টির পরিণতি ও চলমান সংঘাতের কারণে গাজার শিবিরে তীব্র সহায়তা প্রয়োজন; আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।” এই সমন্বয় গাজার শিবিরে ত্বরিত সাহায্য পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে “দুই-মুখী সংকট” হিসেবে বর্ণনা করছেন; একদিকে চলমান সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব। তিনি উল্লেখ করেন, “গাজার শিবিরে তম্বু ভাসমান হওয়া এবং বাড়ি ধসে যাওয়া মানবিক সংকটকে দ্বিগুণ করে তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ত্বরিত হস্তক্ষেপের দাবি করে।” এই বিশ্লেষণ গাজার সমস্যার জটিলতা তুলে ধরে।

গাজার শিবিরে তম্বু পুনর্নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ত্বরিত তম্বু সরবরাহ, সাময়িক আশ্রয়স্থল ও স্যানিটেশন সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। তবে, চলমান নিরাপত্তা উদ্বেগ ও সীমান্ত বন্ধের কারণে সরবরাহের গতি ধীর হতে পারে।

গাজার শিবিরে তীব্র বৃষ্টিপাতের পরিণতি ও মানবিক সংকটের সঙ্গে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার পরিসংখ্যানের সমন্বয় গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়।

পরবর্তী সপ্তাহে গাজার শিবিরে তম্বু পুনর্নির্মাণের অগ্রগতি, মানবিক সাহায্যের বিতরণ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ত্বরিত পদক্ষেপ গাজার শিবিরে মানবিক সংকটের তীব্রতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments