রবিবার দুপুরে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের জন্য কোনো সংসদীয় আসন বাধা নয়।
রিজভী বলেন, তারেক রহমান দেশের সর্বত্র স্বীকৃত একটি জনপ্রিয় নেতা এবং তার জনপ্রিয়তা ও জনগণের ব্যাপক সমর্থন তাকে যেকোনো নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী হিসেবে উপযুক্ত করে তুলেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আসনের সীমাবদ্ধতা তারেকের রাজনৈতিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে না; জনগণের আগ্রহ ও আস্থা তাকে যে কোনো নির্বাচনী ঘাঁটিতে স্বাগত জানাবে।
রিজভী উল্লেখ করেন, ঢাকা-১৭ আসন থেকে তারেকের মনোনয়ন সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি ঢাকাকে দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরে, এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তারেকের প্রার্থীতা পার্টির কৌশলগত লক্ষ্যকে শক্তিশালী করবে বলে জানান।
বিএনপি নেতার মতে, ভোটাররা তারেককে সরাসরি নির্বাচনী মঞ্চে দেখতে চায় এবং তার উপস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন উদ্দীপনা যোগাবে। তিনি যোগ করেন, তারেকের অংশগ্রহণ ভোটারদের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে এবং নির্বাচনের গতি ত্বরান্বিত করবে।
রিজভী আরও বলেন, তারেকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি তাকে যেকোনো আসনে সফল প্রার্থী করে তুলবে। তিনি উল্লেখ করেন, পার্টির অভ্যন্তরে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে তারেকের প্রতি উচ্চ প্রত্যাশা গড়ে উঠেছে।
শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শোক প্রকাশের পর রিজভী তারেকের সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে বিশদে আলোচনা চালিয়ে যান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে পার্টি একত্রিত হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করা জরুরি, এবং তা অর্জনে তারেকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
রিজভী শেষ কথা হিসেবে শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাতের প্রার্থনা করেন এবং সকলকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বিএনপি বর্তমানে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং বিভিন্ন আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। রিজভীর মন্তব্যগুলো পার্টির কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও প্রার্থী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তারেকের প্রার্থীতা পার্টির প্রচারাভিযানে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগাবে এবং তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে। তবে পার্টি অভ্যন্তরে প্রার্থী বিতরণে সমন্বয় ও সমঝোতা প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
রিজভীর বক্তব্যের পর পার্টির অন্যান্য নেতৃবৃন্দও তারেকের সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন, যা পার্টির অভ্যন্তরে সমন্বয় ও ঐক্যের প্রতিফলন।
সামগ্রিকভাবে, রুহুল কবির রিজভীর এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনী ক্যালেন্ডারকে প্রভাবিত করতে পারে এবং পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



