পটুয়াখালিতে আজ সকালে ছয়টি রাজনৈতিক দল—বিএনপি, জামায়াত‑ই‑ইসলাম, গন অধিকার পরিষদ, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সোশ্যালিস্ট পার্টি—একত্রিত হয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি নির্বাচনের সময় কোনো সহিংসতা না ঘটাতে এবং সকল প্রার্থী ও ভোটারকে নিরাপদে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে লক্ষ্য রাখে।
সাক্ষরের অনুষ্ঠানটি পটুয়াখালির মাল্টি‑পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (MPAF) আয়োজন করে, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল সমর্থন এবং যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO) তহবিল দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিরা, যুব সংগঠন এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই ইন্টার‑পার্টি হারমনি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী পার্টিগুলোর মধ্যে বিএনপি জেলা জেনারেল সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান টোটন, জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা শাহিদুল ইসলাম কাইসারী, গন অধিকার পরিষদের সদস্য সেক্রেটারি শাহ আলম সিকদার, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির যৌথ সমন্বয়ক মো. বশির উদ্দিন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক পার্টির জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জাহিরুল আলম সবুজ এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের জেলা জেনারেল সেক্রেটারি সমীর কুমার কর্মকার উপস্থিত ছিলেন। পটুয়াখালি প্রেস ক্লাবের সমাবেত মো. জাকির হোসেন এবং অন্যান্য স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বক্তব্য রাখেন।
সাক্ষরের মূল বিষয়বস্তু সাতটি ধারা নিয়ে গঠিত একটি সমঝোতা চুক্তি। প্রথম ধারা অনুযায়ী, সব দলই ব্যক্তিগতভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো সহিংসতা না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। দ্বিতীয় ধারা সকল স্তরের নেতা ও কর্মীদের কথা ও কাজের ক্ষেত্রে সংযম বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়, যাতে উত্তেজনা বাড়ে না। তৃতীয় ধারা উল্লেখ করে যে কোনো প্রাথমিক সংঘাতের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সহিংসতা রোধে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
চতুর্থ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো বিরোধী গোষ্ঠী সহিংসতা শুরু করে, তবে অন্য দলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া না দিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করবে। পঞ্চম ধারায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এই অংশের বিশদ বিবরণ প্রকাশিত হয়নি। ষষ্ঠ ধারায় ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সকল দলই একসাথে কাজ করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ ধারায় নির্বাচনের পর ফলাফল গ্রহণে পারস্পরিক সম্মান এবং আইনের শাসন বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত।
এই সমঝোতা চুক্তি পটুয়াখালির রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল করতে এবং জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। সকল দলই একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে, ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কোনো ব্যাঘাত না ঘটাতে সচেষ্ট থাকবে।
চুক্তির স্বাক্ষরের পর, অংশগ্রহণকারী দলগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। তারা নির্বাচনের পূর্বে এবং নির্বাচনের সময় উভয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার, বিরোধের প্রাথমিক সংকেত শনাক্ত করার এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে পটুয়াখালির রাজনৈতিক দলগুলো একসাথে কাজ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিচালনা নিশ্চিত করতে চায়, যা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



