22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাজ্য অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিল, কঙ্গোকে ভিসা সুবিধা বাতিল

যুক্তরাজ্য অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিল, কঙ্গোকে ভিসা সুবিধা বাতিল

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ গত মাসে ঘোষিত নতুন অভিবাসন সংস্কারকে কেন্দ্র করে আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেন। এ চুক্তির আওতায় অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়া তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন দ্রুততর করার জন্য সহযোগিতা বাড়াবে।

ব্রিটিশ সরকার এই চুক্তিগুলোকে প্রথম বড় পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরেছে, যার লক্ষ্য শরণার্থীর মর্যাদা অস্থায়ী করা এবং কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের দ্রুত নির্বাসন নিশ্চিত করা।

ডিআর কঙ্গো, অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়ার পক্ষ থেকে এই বিষয়ের উপর তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে যে, কঙ্গো সহযোগিতার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তার জন্য দ্রুত-ট্র্যাক ভিসা সেবা এবং ভিআইপি ও নীতিনির্ধারকদের দেওয়া বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।

শাবানা মাহমুদ উল্লেখ করেন, যদি কঙ্গোর নাগরিকদের জন্য সহযোগিতা দ্রুত না হয়, তবে যুক্তরাজ্য তাদের ভিসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন যে, সব দেশই নিয়ম মেনে চলবে এবং কোনো নাগরিকের এখানে বৈধ অধিকার না থাকলে তাকে ফেরত নিতে হবে।

অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এখন কঙ্গোর পালা সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কঙ্গো তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন না করে, তবে তাদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের বিশেষ অধিকার হারাতে হবে।

গত মাসে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয়-ডানপন্থী সরকার, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে, আশ্রয় (অ্যাসাইল) ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার ঘোষণা করে। এই সংস্কার শরণার্থী ও তাদের সন্তানদের সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয় এবং অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবাহ রোধের উদ্দেশ্যে গৃহীত।

এই পদক্ষেপের ফলে দেশের কঠোর-ডানপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সরকার দাবি করে যে, নতুন নীতি শরণার্থীদের ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করতে নিরুৎসাহিত করবে, যা ড্যানিশের কঠোর আশ্রয় নীতির অনুকরণে গৃহীত।

বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩৯,০০০েরও বেশি মানুষ ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের মোট সংখ্যার চেয়ে বেশি, তবে ২০২২ সালের রেকর্ড সংখ্যার তুলনায় কম।

শাবানা মাহমুদ সংসদে তার বক্তব্যে ডেনমার্কের কঠোর আশ্রয় ব্যবস্থার মডেলকে উদাহরণ দিয়ে বলেন, নতুন সংস্কারগুলো শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়া থেকে বিরত রাখবে।

তিনি বর্তমান ব্যবস্থাকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে উল্লেখ করে, এটি একটি ‘অস্বস্তিকর সত্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, যা সরকারকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতর এই সংস্কারগুলোকে ‘দ্রুত, স্বচ্ছ এবং ন্যায়সঙ্গত’ প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যাতে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের দ্রুত দেশ থেকে বের করা যায়।

অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়া ইতিমধ্যে তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা জানিয়েছে, তবে কঙ্গোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরকার কঙ্গোর সঙ্গে আরও আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই নীতি পরিবর্তনগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments