বিশ্বের শীর্ষ নারী টেনিস খেলোয়াড় আর্যনা সাবালেনকা এবং ২০২২ উইম্বলডন ফাইনালিস্ট নিক কিরগোসের মধ্যে ২৮ ডিসেম্বর একটি এক্সিবিশন ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে। এই ম্যাচটি ‘ব্যাটল অফ দ্য সেক্সেস’ শৈলীর এবং টেনিসের ভিন্ন লিঙ্গের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
ম্যাচটি বিকাল ১৫:৪৫ GMT-এ সরাসরি BBC One চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে। সম্প্রচার সময়সূচি এবং বিশদ বিবরণ BBC স্পোর্টসের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য লাইভ দেখার সুযোগ নিশ্চিত করবে।
সাবালেনকা, ২৭ বছর বয়সী বেলারুশের শীর্ষ খেলোয়াড়, বর্তমানে নারী সিঙ্গেলসের বিশ্ব নম্বর এক স্থানে রয়েছেন। তিনি এই মৌসুমে চারটি শিরোপা জিতেছেন, যার মধ্যে ইউএস ওপেনও অন্তর্ভুক্ত, এবং অতিরিক্ত পাঁচটি ফাইনালেও পৌঁছেছেন।
কিরগোস, অস্ট্রেলিয়ার পরিচিত টেনিসার, ২০২২ উইম্বলডনের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার আক্রমণাত্মক খেলার ধরন দিয়ে পরিচিত। উভয় খেলোয়াড়ের মধ্যে এই এক্সিবিশন ম্যাচটি টেনিস জগতের বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সাবালেনকা গত সিজনে ৭১টি ম্যাচের মধ্যে ৫৯টি জিতেছেন, যা তার ধারাবাহিকতা এবং শীর্ষ স্তরের পারফরম্যান্সের প্রমাণ। তিনি সার্ভে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে অবস্থান করে, সেবা গেম জেতার হারেও উচ্চ র্যাঙ্কে রয়েছেন। তার শক্তিশালী গ্রাউন্ডস্ট্রোক এবং শক্তিশালী সার্ভ তার প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করে।
তবে তিনি কখনও কখনও বেসলাইন থেকে অনিয়মিত খেলা দেখিয়েছেন। এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য তিনি ড্রপ-শট এবং নেটে অগ্রসর হওয়ার মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ কৌশল যোগ করেছেন, যা তার খেলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সাবালেনকা উল্লেখ করেছেন যে তিনি কিরগোসের তুলনায় বেশি প্রস্তুত বোধ করছেন। তার মতে, নিজের ফিটনেস এবং সাম্প্রতিক ফর্ম তাকে এই বিশেষ ম্যাচে সুবিধা দেবে।
ম্যাচের ফরম্যাট হবে সর্বোচ্চ তিন সেট, এবং তৃতীয় সেটে ১০ পয়েন্টের টাই-ব্য্রেকার ব্যবহার করা হবে। এই নিয়মটি উভয় খেলোয়াড়ের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ডিজাইন করা হয়েছে।
ইভলভ নামক আয়োজক সংস্থা প্রকাশ করেছে যে, গড়ে নারী খেলোয়াড়রা পুরুষের তুলনায় প্রায় ৯% ধীর গতিতে চলেন। তাই সাবালেনকার দিকের কোর্টের মাত্রা ৯% ছোট করা হবে, যা তার গতিবেগের পার্থক্যকে সমন্বয় করবে।
অতিরিক্তভাবে, উভয় খেলোয়াড়কে শুধুমাত্র একবারই সেবা নেওয়ার অনুমতি থাকবে। এই নিয়মটি কিরগোসের শক্তি এবং গতি সুবিধা সীমিত করতে লক্ষ্য রাখে, যা তার মতে সবচেয়ে বড় সমতা সৃষ্টিকারী উপাদান।
কিরগোস স্বীকার করেছেন যে এই সীমাবদ্ধতা তার শক্তি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা কঠিন করে তুলবে, তবে তিনি উল্লেখ করেন যে সাবালেনকার সার্ভও শক্তিশালী, এবং ব্যাককোর্টে খেলায় দুজনেরই সমতা বেশি থাকবে।
পুরুষদের খেলায় প্রথম সার্ভের শতাংশের ওপর বেশি নির্ভরশীলতা রয়েছে, এ বিষয়টি কিরগোসের মন্তব্যে উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন এই এক্সিবিশন ম্যাচে উভয় লিঙ্গের খেলোয়াড়ের দক্ষতা সমানভাবে প্রকাশ পাবে।
সাবালেনকা জোর দিয়ে বলেছেন যে এই ধরনের ইভেন্ট নারী ক্রীড়া ক্ষতি করবে না, বরং টেনিসের বৈচিত্র্য বাড়াবে। অন্যদিকে, কিরগোস উল্লেখ করেছেন যে তার অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য পূর্বের লিঙ্গ সমতা আন্দোলনের তুলনায় ভিন্ন, এবং তিনি এটিকে সামাজিক পরিবর্তনের জন্য নয়, ক্রীড়া বিনোদনের জন্য দেখছেন।
এই ম্যাচের পরবর্তী সময়সূচি এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে উভয় খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও এক্সিবিশন বা টুর্নামেন্টের সম্ভাবনা রয়েছে। দর্শকরা এই উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি দেখতে এবং টেনিসের নতুন দিক উপভোগ করতে পারবেন।



