বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমান আজ গুলশান এলাকায় পার্টির চেয়ারপার্সন অফিসে গিয়ে প্রথমবারের মতো উপস্থিতি জানান। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই অফিসে তার আগমন পার্টির অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির পর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুপুরের ১:৪৩ টায় তরিকের গুলশান অফিসে পৌঁছানোর সময়টি পার্টির মিডিয়া সেল সদস্য সায়রুল কবির খান নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তরিকের আগমন পার্টির শীর্ষ স্তরের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
অফিসে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, যার মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গায়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল ময়েন খান, আমির খোসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান এবং রুহুল কবির রিজভি আহমেদ। এই সদস্যরা তরিকের সঙ্গে আলোচনা ও পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য একত্রিত হয়েছেন।
গুলশান অফিসের দ্বিতীয় তলায় তরিকের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা একটি কক্ষকে তার কার্যনির্বাহী অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তরিক সেখানে বসে পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল ও সংগঠনগত বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা শুরু করেন।
আলোচনার বিষয়বস্তুতে পার্টির অভ্যন্তরীণ কাঠামো পুনর্গঠন, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং নেতৃত্বের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা অন্তর্ভুক্ত। স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা তরিকের নির্দেশে বিভিন্ন বিভাগীয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে মতবিনিময় করেন।
তরিকের গুলশান অফিসে উপস্থিতির আগে তিনি নিজের পিতার সমাধিস্থলে ১৯ বছর পর প্রথমবারের মতো প্রার্থনা করেন। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি তার রাজনৈতিক জীবনে একটি ব্যক্তিগত মাইলফলক হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
আজ রোববার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম একটি সংবাদ সম্মেলনে তরিকের গুলশান অফিসে ভ্রমণের তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পার্টির নেতৃত্বের এই পদক্ষেপটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ আনতে পারে।
বিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক তরিকের এই ভ্রমণকে বিএনপির সংগঠন পুনর্গঠন এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির সূচক হিসেবে দেখছেন। তারা অনুমান করছেন, ভবিষ্যতে পার্টি আরও সক্রিয়ভাবে জনমত গঠন এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে তরিকের নেতৃত্বে কাজ করবে।
তরিকের গুলশান অফিসে প্রথম উপস্থিতি এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার পর, পার্টির অভ্যন্তরে নতুন কর্মসূচি চালু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। পার্টি নেতারা আগামী সপ্তাহে আরও সভা ও পরিকল্পনা সেশন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



