ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজীদের গ্রেফতার করার জন্য চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত রাত্রি সচিবালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এ বিষয়ে বিশদ তথ্য শেয়ার করেন।
অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হল হত্যার সঙ্গে যুক্ত সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করা এবং মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা। শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে এই হত্যাকাণ্ডে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেফতার করা যায়নি, ফলে তাদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
ডিবি প্রধানের মতে, এখন পর্যন্ত মোট দশজন সন্দেহভাজীকে বিভিন্ন এলাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় গৃহীত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের কাছ থেকে হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, অস্ত্র, গুলি এবং পাসপোর্টের তথ্য পাওয়া গেছে।
ফয়সাল এবং আলমগীরের ক্ষেত্রে তদন্তে কিছু জটিলতা দেখা দিচ্ছে। শফিকুল ইসলাম জানান, ফয়সালের পিতার দ্বারা মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন করা হয়েছিল, যা পরে সঠিক নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকানা ও ব্যবহার সম্পর্কিত অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
হত্যার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলির পাশাপাশি উদ্ধার করা পাসপোর্টও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সামগ্রীগুলো তদন্তের মূল দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়তা করছে এবং সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।
মাস্টারমাইন্ডের পরিচয় এখনও তদন্তাধীন, তবে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তদন্ত দল বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে। মামলাটির জটিলতা বিবেচনা করে, তদন্তে অতিরিক্ত সময় ও সম্পদ ব্যয় করা হচ্ছে এবং সব প্রমাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অধিকন্তু, গ্রেফতারকৃতদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও চেকের তথ্যও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। শফিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা চেকগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রয়েছে এবং সেগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও লেনদেনের পেছনের উদ্দেশ্য যাচাই করা হচ্ছে। এই আর্থিক অনুসন্ধান মামলার আর্থিক দিকটি উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডিবি প্রধানের মতে, ফয়সাল করিম মাসুদের গ্রেফতার সংক্রান্ত তদন্তও চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রয়োজনীয় শোনানির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে এখন পর্যন্ত দশজন সন্দেহভাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অপরাধের মূল দায়িত্বশীলদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার শোনানি শীঘ্রই নির্ধারিত হবে।



