20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাতীয় নাগরিক পার্টির নারী নেতাদের বিদ্রোহ ও জামায়াতে ইসলামী জোটের বিরোধিতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির নারী নেতাদের বিদ্রোহ ও জামায়াতে ইসলামী জোটের বিরোধিতা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত হওয়ার পর থেকে, জামায়াতে ইসলামী (জি) সঙ্গে সম্ভাব্য নির্বাচনী জোটের প্রশ্নে পার্টির অভ্যন্তরে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এই বিরোধের কেন্দ্রে পার্টির নারী নেতারা দাঁড়িয়ে, জোটের বিরোধিতা করে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এনসিপি, যা জুলাই আন্দোলনের সময় তরুণদের স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, এখন জি-র সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিভাজনের মুখোমুখি। জোটের প্রস্তাবের ওপর দলীয় উচ্চপদস্থদের মধ্যে মতবিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে, বিশেষ করে নারী নেতৃত্বের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

নারী নেতাদের মধ্যে একাধিকজন ইতিমধ্যে পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাসনিম জারা, যিনি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে এনসিপি ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। একই সময়ে, তাজনূভা জাবীন, যিনি ঢাকা-১৭ আসনের জন্য এনসিপির প্রার্থী ছিলেন, তাও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

এই পদত্যাগের পেছনে মূল কারণ হিসেবে নারী নেতারা জি-র সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন। ২৫ ডিসেম্বর, পার্টির অভ্যন্তরীণ বৈঠকে, নাহিদ ইসলামের বাসায় একত্রিত হয়ে নারী নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যদি জি-র সঙ্গে জোট গঠিত হয়, তবে তারা সমষ্টিগতভাবে দলত্যাগ করবেন। এরপর একের পর এক নারী নেতা ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেন।

এনসিপির জেষ্ঠ্য যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে লিখে জানান, জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে দেখা যায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো রাজনৈতিক সহযোগিতা বা সমঝোতা হলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে, কারণ তার নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি জি-র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শারমিনের পোস্টে তিনি জি-র সাম্প্রতিক মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জি-র কিছু দায়িত্বশীল নেতা জুলাইয়ের স্পিরিটের ভিত্তিতে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন, তবে তা এনসিপির মূলনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এনসিপি বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, আর এই তিনটি বিষয়ের ওপর একমত না হলে কোনো জোট সম্ভব নয়।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কও একই দিকের মত প্রকাশ করে জানান, তার বর্তমান অবস্থান পার্টির গত দেড় বছরের নীতি সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, জি-র কার্যক্রমে পার্টির সংস্কারমূলক কণ্ঠস্বর দমন করা হয়েছে, ফলে সংস্কারের বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট গঠন সম্ভব নয়। এই অবস্থান থেকে তিনি জুলাই পদযাত্রার পর থেকে ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেছেন।

দলীয় সিদ্ধান্তের পর, এনসিপি ৩০০টি নির্বাচনী আসনে একক প্রার্থী দাখিলের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীনসহ কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যারা পার্টি থেকে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই পদক্ষেপকে এনসিপি তার স্বতন্ত্রতা ও সংস্কারমুখী নীতি বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নারী নেতাদের এই বিদ্রোহ পার্টির অভ্যন্তরে জোটের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে এবং এনসিপির স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। তবে একই সঙ্গে, স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের ভোটের ভাগে প্রভাব পড়তে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনে পার্টির পারফরম্যান্সকে নির্ধারণ করবে।

পরবর্তী সময়ে, এনসিপি কীভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন করবে এবং জি-র সঙ্গে কোনো জোটের সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পার্টির নারী নেতাদের অবস্থান ও পদত্যাগের প্রভাব নির্বাচনী কৌশল ও ফলাফলে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা নজরে থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments