22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধউত্তরাখণ্ডে বিএসএফ কর্মীর পুত্রকে ‘চীনা’ বলে ছুরিকাঘাত, ২৪‑বছর বয়সী ছাত্রের মৃত্যু

উত্তরাখণ্ডে বিএসএফ কর্মীর পুত্রকে ‘চীনা’ বলে ছুরিকাঘাত, ২৪‑বছর বয়সী ছাত্রের মৃত্যু

দেহরাদুন, উত্তরাখণ্ডের সেলাকুই এলাকায় ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ২৪ বছর বয়সী এমবিএ শিক্ষার্থী অ্যাঞ্জেল চাকমা এবং তার ছোট ভাই মাইকেল দোজকে ‘চীনা’ বলে অপমান করা হয়। অপমানের পর তীব্র তর্কে রূপান্তরিত হওয়া কথোপকথনটি দ্রুতই সহিংসতায় রূপ নেয় এবং অ্যাঞ্জেলকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

অ্যাঞ্জেল চাকমা, দেহরাদুনের জিজ্ঞাসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তার পিতা বিএসএফ কনস্টেবল। তিনি এবং মাইকেল স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা করার সময় কয়েকজন স্থানীয় যুবকের দ্বারা বর্ণবিদ্বেষী গালিগালাজের শিকার হন। গালিগালাজের সময় তাকে ‘চীনা’ বলে ডাকা হয়, যার প্রতিক্রিয়ায় তিনি শালীনভাবে উত্তর দেন যে তারা ভারতীয় এবং কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে চায় না। তর্কের উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল আক্রমণকারী ছুরি বের করে অ্যাঞ্জেলকে আঘাত করে।

আক্রমণের ফলে অ্যাঞ্জেলের গলা ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লেগে যায়, মাইকেলও একই সময়ে গুরুতরভাবে আহত হয়। অ্যাঞ্জেলকে তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ হাসপাতালের তীব্র সেবার ইউনিটে ভর্তি করা হয় এবং ১৪ দিন ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। এই সময়ে তার অবস্থা স্থিতিশীল না হয়ে শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ ত্যাগ করে। মাইকেলকে একই হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়, তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

অ্যাঞ্জেলের দেহ ১৪ দিন পর, শনিবার, আগরতলা শহরে স্থানান্তরিত করা হয় যেখানে তার শেষ সমাহার অনুষ্ঠিত হয়। দেহরাদুনে শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়, বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মী ও শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর মধ্যে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের পর মোট ছয়জন সন্দেহভাজন চিহ্নিত করে। তাদের মধ্যে দুইজন নাবালক। তদন্তের ফলস্বরূপ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়, তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক। পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত নেপালে পালিয়ে গেছেন এবং তাকে গ্রেফতার করার জন্য ২৫,০০০ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। দুইটি পুলিশ দল নেপাল সীমান্তে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

আইনগত দিক থেকে এই মামলায় ভারতীয় দণ্ডসংহিতা ধারা ১০৩(১) (হত্যা) এবং ধারা ১০৩(৩)(৫) (সম্মিলিত অপরাধমূলক অভিপ্রায়) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। পূর্বে হত্যাচেষ্টা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারা যুক্ত করা হয়েছিল, যা এখনো আদালতে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অ্যাঞ্জেলের মৃত্যুর পর ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং মানবাধিকার গোষ্ঠী প্রতিবাদসূচক র্যালি ও ধ্বংসাত্মক সমাবেশের আহ্বান জানায়। তারা জাতিগত ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগের দাবি করে।

বর্তমানে তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার ও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে স্থানীয় আদালতে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

অধিক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার অগ্রগতি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত শাস্তি সম্পর্কে আপডেট প্রদান করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments