কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে রাত ৬টায় ‘দ্য আটলান্টিক ক্রুজ’ নামের পর্যটক জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনের ফলে এক যাত্রী প্রাণ হারায় এবং জাহাজের কার্যক্রম তৎক্ষণাৎ থেমে যায়। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা দল দ্রুত পৌঁছায়, তবে শোকের সংবাদই প্রধান।
অগ্নিকাণ্ডের পর জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান নেতৃত্বে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় এবং সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সভায় মূল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সেন্টমার্টিন গন্তব্যে যাত্রা করা কোনো পর্যটকবাহী জাহাজের ফিটনেস ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে চলাচল থেকে বিরত রাখা হবে। এই নির্দেশনা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৎক্ষণাৎ কার্যকর করা হবে।
ডিসি মান্নান নির্দেশ দেন যে, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ এবং ফায়ার সার্ভিসকে আজ রাতের মধ্যেই সক্রিয় থাকা সব জাহাজের ফিটনেস ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে। পুনরায় যাচাই করা জাহাজগুলোই রবিবার থেকে সেন্টমার্টিনের দিকে যাত্রা চালিয়ে যাবে।
যেসব জাহাজের যাত্রা বাতিল করা হবে, তাদের যাত্রীদের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসন অনুমোদিত অন্যান্য জাহাজে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করবে। এই ব্যবস্থা যাতে যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিআইডব্লিউটিএয়ের প্রতিনিধিরা এবং ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত।
কমিটি ‘দ্য আটলান্টিক ক্রুজ’ জাহাজে ঘটিত অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিসি মান্নান জোর দিয়ে বলেন, সেন্টমার্টিনের পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রথম অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জাহাজের ফিটনেসের সম্পূর্ণ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজকে সেন্টমার্টিনের পথে ছাড়তে অনুমতি দেওয়া হবে না।
বৈধভাবে অনুমোদিত জাহাজগুলোকে পুনরায় পরীক্ষা করার কাজ আজ রাতের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি দ্রুত কাজ করে, যাতে পর্যটকবাহী সেবা পুনরায় শুরু করা যায়।
তদন্ত কমিটির কাজের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে এবং ফলাফল পাবলিকভাবে জানানো হবে। কমিটি যদি কোনো লঙ্ঘন বা অবহেলা পায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত দিক থেকে নৌচালনা সংক্রান্ত বিধি ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা সম্ভব।
এই ঘটনায় প্রভাবিত যাত্রী ও তাদের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করার জন্য জেলা প্রশাসন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেছে। জরুরি চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং ভ্রমণ পুনর্বিন্যাসের ব্যবস্থা করা হবে।
সেন্টমার্টিন গন্তব্যে পর্যটকবাহী জাহাজের চলাচল পুনরায় শুরু হতে পারে শুধুমাত্র তখনই, যখন সব নিরাপত্তা চেক সম্পন্ন হবে এবং অনুমোদন পাবে। এই শর্ত পূরণ না হলে জাহাজের যাত্রা স্থগিত থাকবে।
অধিকাংশ সংস্থা এখনো অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত। জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।



