জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ একটি বিশেষ আদেশে জানিয়েছে যে, ব্যক্তিগত করদাতাদের ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ এখন ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি সরকারী স্বার্থে নেওয়া হয়েছে এবং সকল করদাতাকে অতিরিক্ত সময় প্রদান করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
এনবিআর পূর্বে একই আর্থিক বছরের রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখকে এক মাস বাড়িয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছিল। তবে আর্থিক বছরের শেষের কাছাকাছি সময়ে কিছু করদাতা দেরি করে দাখিলের প্রস্তুতি নিতে পারায় এই অতিরিক্ত সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বিশেষ আদেশটি আজই প্রকাশিত হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই আদেশের মাধ্যমে করদাতারা এখন জানুয়ারি শেষ পর্যন্ত তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, যা পূর্বের নির্ধারিত সময়সীমার তুলনায় এক মাস বেশি।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস.এন. নজরুল ইসলাম এই সম্প্রসারণের কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পদক্ষেপটি করদাতাদের আর্থিক চাপে হ্রাস ঘটাবে এবং সময়মতো রিটার্ন দাখিলের হার বাড়াবে।
করদাতাদের জন্য এক মাসের অতিরিক্ত সময়ের অর্থ হল, তারা বছরের শেষের বোনাস, বেতন বৃদ্ধি বা অন্যান্য আয় গ্রহণের পরই রিটার্ন প্রস্তুত করতে পারবে। ফলে হঠাৎ নগদ প্রবাহের চাপ কমে যাবে এবং রিটার্নের গুণগত মান উন্নত হবে বলে আশা করা যায়।
অন্যদিকে, রাজস্ব সংগ্রহের দিক থেকে এই সম্প্রসারণের ফলে সরকারের নগদ প্রবাহে সাময়িক বিলম্ব হতে পারে। জানুয়ারি মাসে রিটার্নের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর সংগ্রহের সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে, যা বাজেট বাস্তবায়নে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে দেখা যায়, দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে করদাতাদের সুবিধা দেওয়া রিটার্ন দাখিলের হার বাড়াতে সহায়ক হয়। অতিরিক্ত সময়ের ফলে দেরি করে দাখিল করা করদাতারা জরিমানা এড়াতে পারবেন এবং স্বেচ্ছায় রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রবণতা বাড়বে।
এই পদক্ষেপের ঝুঁকি হল, যদি দাখিলের পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকে, তবে সরকারী আয় পরিকল্পনা প্রভাবিত হতে পারে। তাই এনবিআরকে রিটার্নের প্রবাহ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে হবে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, এনবিআরের এই ধরনের নমনীয়তা কর ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি ধাপ হিসেবে দেখা যায়। করদাতাদের চাহিদা ও আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সময়সীমা সমন্বয় করা দীর্ঘমেয়াদে স্বেচ্ছা সম্মতি বাড়াতে পারে এবং কর শাসনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করতে পারে।
একই সময়ে, রাজনৈতিক দিক থেকে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে; তরিক রহমান ১৯ বছর পর তার পিতার সমাধিতে প্রার্থনা করেছেন। এই ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি সংবেদনশীল মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংক্ষেপে, এনবিআরের এক মাসের অতিরিক্ত সময় প্রদান করদাতাদের আর্থিক স্বস্তি বাড়াবে, রিটার্ন দাখিলের হার উন্নত করবে এবং স্বেচ্ছা সম্মতি বাড়াবে। তবে সরকারকে নগদ প্রবাহের সম্ভাব্য বিলম্ব মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে হবে এবং রিটার্নের গতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।



