রবিবার সকাল দশটা ত্রিশ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবনে অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথের মাধ্যমে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শীর্ষে অধিষ্ঠিত হন, যা জাতীয় আইনি ব্যবস্থার নতুন পর্যায় সূচিত করে।
শপথ গ্রহণের সময় দারবার হল, বঙ্গবন্ধু ভবনের প্রধান হল, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস, অন্যান্য উপদেষ্টা, আপিল ও হাই কোর্ট বিভাগের অধিকাংশ বিচারক এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এই সমাবেশটি দেশের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সংহতি প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন ২৩ ডিসেম্বর জুবায়েরকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। তার পূর্ববর্তী পদ ছিল আপিল বিভাগে বিচারপতি, যাকে তিনি ১২ আগস্ট ২০২৪-এ নিয়োগ করে পরের দিন শপথ গ্রহণ করেন। এই পদোন্নতি তার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা।
শুক্রবারের শোয়ারে আপিল বিভাগে কাজ করা জুবায়েরের পূর্ববর্তী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রিফাত আহমেদ অবসর গ্রহণ করেন। তার পদত্যাগের পর জুবায়েরের শপথ নতুন নেতৃত্বের সূচনা করে, যা দেশের আইনি কাঠামোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
জুবায়ের রহমান চৌধুরীর জন্ম ১৮ মে ১৯৬১ সালে। তিনি প্রয়াত এএফএম আবদুর রহমান চৌধুরীর পুত্র, যিনি নিজেও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ছিলেন। পরিবারিক ঐতিহ্য এবং আইনি পেশার সঙ্গে তার গভীর সংযোগ তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
শিক্ষাগত দিক থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করে তিনি আন্তর্জাতিক আইনি জ্ঞানকে দেশের বিচার ব্যবস্থায় সংযোজনের ভিত্তি গড়ে তোলেন।
তার পেশাগত যাত্রা ১৯৮৫ সালে জেলা বিচারকের আদালতে আইনজীবী হিসেবে শুরু হয়। দুই বছর পর, ১৯৮৭ সালে তিনি হাই কোর্টে অনুশীলন শুরু করেন, যেখানে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশগ্রহণ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে উচ্চতর বিচারিক দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করে।
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর, তার পদ স্থায়ী করা হয় এবং তিনি হাই কোর্টের স্থায়ী বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি আইনি নীতি ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তিনি আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং পরের দিন শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই পদে তার কাজের গুণগত মান এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অটুট প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শপথের পর, প্রধান বিচারপতি জুবায়েরের সম্মানসূচক অনুষ্ঠান ৪ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানটি তার নতুন পদে স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদানের পাশাপাশি আইনি সম্প্রদায়ের সমন্বয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আয়োজিত।
একই দিনে, বিরোধী দলীয় নেতা তরিক রহমান তার পিতার কবরস্থানে ১৯ বছর পর প্রথমবারের মতো গিয়ে প্রার্থনা করেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে উল্লেখযোগ্য, তবে এটি প্রধান বিচারপতির শপথের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
প্রধান বিচারপতি জুবায়েরের শপথের ফলে দেশের আইনি ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি প্রয়োগের সম্ভাবনা বাড়ছে। তার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত পটভূমি তাকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং দেশের আইনি সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম করবে। ভবিষ্যতে তার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম কীভাবে বিকশিত হবে তা দেশের সকল স্তরে নজরে থাকবে।



