ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় দেশগুলো একত্রে তেহরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই মন্তব্যটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারের সময় প্রকাশিত হয়, যা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে তেহরানকে একাধিক দিক থেকে চাপের মুখে রাখতে পশ্চিমা শক্তিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি যুক্তি দেন, যদি কোনো নতুন হামলা ঘটে, তেহরান আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর বর্তমান সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। যদিও দেশটি বিভিন্ন সংকটের সম্মুখীন, তবুও তার সরঞ্জাম ও জনশক্তি উভয়ই পূর্বের চেয়ে বেশি শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে, যা বাহিনীর দায়িত্ব পালনকে সহজতর করছে।
পেজেশকিয়ান আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সংঘাতের তীব্রতা ১৯৮০‑এর দশকের ইরান‑ইরাক যুদ্ধের চেয়েও বেশি ধ্বংসাত্মক হতে পারে। তিনি বলেন, পশ্চিমা শক্তি ও ইসরায়েলের সঙ্গে লড়াই শুধুমাত্র সামরিক দিকেই সীমাবদ্ধ নয়; নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমন্বিত পদক্ষেপগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনি একই সাক্ষাৎকারে দেশের যুবসমাজকে প্রতিরোধের প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি যুবকদের দেশীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে বলছেন।
ইতিমধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে সরাসরি সংলাপে ফিরিয়ে আনার জন্য ইরাকের মধ্যস্থতায় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল‑সুদানি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাবই আলোচনার পথে প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
এই মন্তব্যগুলো প্রকাশের সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের পারমাণবিক প্রোগ্রাম ও আঞ্চলিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করে চলেছে। উভয় দেশই ইরানের সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলায় কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, পেজেশকিয়ানের এই প্রকাশনা তেহরানের জনমতকে দৃঢ় করে এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি যে সমন্বিত যুদ্ধের কথা বলেছেন, তা কেবল সামরিক সংঘর্ষ নয়, বরং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে ইরানের আঞ্চলিক আচরণ, পারমাণবিক নীতি এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়গুলো আলোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বৈঠকটি অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠনেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে তেহরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলো পরস্পরের অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে বজায় রেখেছে। তেহরান তার প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে প্রস্তুত, আর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ করার জন্য নীতি সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে।
পরবর্তী ধাপগুলো মূলত পারস্পরিক বিশ্বাসের পুনর্নির্মাণের ওপর নির্ভর করবে। যদি ইরাকের মধ্যস্থতায় কোনো সেতু গড়ে ওঠে, তবে সরাসরি সংলাপের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। অন্যথায়, উভয় পক্ষের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের তীব্রতা বাড়তে পারে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।



