চট্টগ্রাম‑৫ (হাটহাজারী‑বায়েজিদ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন রবিবার সকাল দশটায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীনের হাতে মনোনয়নপত্র জমা করেন। এভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে তিনি প্রথম প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতা নিশ্চিত করেন।
মীর হেলাল উদ্দিন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ‑সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিভাগীয় কমিশনার পাঁচটি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছেন। জমা দেওয়ার পর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
তিনি বললেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, বিশেষত যখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়া হয়। তারেক রহমানের আগমন থেকে নির্বাচনী অস্থিরতা হ্রাস পেয়েছে এবং এখন দেশ সুসংগঠিত নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
মীর হেলাল উদ্দিন উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, দলটি নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনকে পূর্ণভাবে মানবে।
বিএনপি দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রার্থীরা নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মীর হেলাল উদ্দিন জানান, দলের ইশতেহার ছাড়াও, প্রতিটি আসনের স্থানীয় সমস্যাবলি বিবেচনা করে পৃথক ইশতেহার প্রস্তুত করা হবে।
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. হেদায়েত উল্যাহ জানান, চট্টগ্রামের মোট ১৬টি আসনের মধ্যে মীর হেলাল উদ্দিনই প্রথম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য প্রার্থীর নামও শীঘ্রই প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিএনপি ইতিমধ্যে ১৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে দুইটি আসনে গতকাল সন্ধ্যায় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। সীতাকুণ্ড আসনে পূর্বে ঘোষিত সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে প্রার্থী হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে।
ডবলমুরিং আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সরিয়ে, বন্দর‑পতেঙ্গা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ডবলমুরিং আসনে বিএনপির প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের পুত্র সাঈদ আল নোমানকে প্রার্থী হিসেবে নাম করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম‑১৪ আসনে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ঘোষিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট দল এই আসনের জন্য প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে সব দলই তাদের প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করার দিকে মনোনিবেশ করেছে।
বিএনপি দল নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন জনমত সমীক্ষা ও জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ভোটারদের মতামত জানার পরিকল্পনা করেছে।
এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, তবে সকল দলই আইনগত বিধি মেনে চলার এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।



