20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবিশ্ব তেল দামের ২% পতন, সরবরাহ অতিরিক্ততা ও ইউক্রেন শান্তি আলোচনার প্রভাব

বিশ্ব তেল দামের ২% পতন, সরবরাহ অতিরিক্ততা ও ইউক্রেন শান্তি আলোচনার প্রভাব

শুক্রবার আন্তর্জাতিক তেল বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ডলার ছয় দশমিক ছয় সেন্ট কমে ৬০.৬৪ ডলার প্রতি ব্যারেল এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ৫৬.৭৪ ডলার পর্যন্ত নেমে আসে। এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে বিশাল পরিমাণে তেল সরবরাহের অতিরিক্ততা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের সমাধানের সম্ভাবনা উভয়ই উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রেন্টের দাম এক ডলার ছয় দশমিক ছয় সেন্ট কমে ২.৫৭ শতাংশ হ্রাস পায়, আর ডব্লিউটিআই ১.৬১ ডলার হ্রাসে ২.৭৬ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এই দুই মূল সূচকের সমন্বিত পতন বাজারে সরবরাহের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।

বছরের শুরু থেকে ব্রেন্টের দাম প্রায় উনিশ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই প্রায় একুশ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সালের পর থেকে সবচেয়ে তীব্র বার্ষিক হ্রাসের পথে এগিয়ে যাওয়া এই প্রবণতা, তেল উৎপাদনের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহের অতিরিক্ততা দ্বারা চালিত হচ্ছে।

ডিসেম্বর ১৬ তারিখে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছানো দাম থেকে সাম্প্রতিক সেশনে সরবরাহে ব্যাঘাতের কারণে সাময়িকভাবে পুনরুদ্ধার দেখা গিয়েছিল। তবে এই পুনরুদ্ধার দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী না হয়ে, অতিরিক্ত উৎপাদনের চাপের মুখে আবার নিচের দিকে সরে যায়।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভূ-রাজনৈতিক উপাদান স্বল্পমেয়াদে দামের সমর্থন প্রদান করেছে, তবে তা অতিরিক্ত সরবরাহের মূল প্রবণতাকে পরিবর্তন করতে পারেনি। এজিস হেজিংয়ের বিশ্লেষকরা একটি নোটে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন, যেখানে তারা অতিরিক্ত সরবরাহের ঝুঁকি এবং বাজারের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করেছেন।

প্যারিস ভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এর ডিসেম্বর মাসের তেল বাজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছর বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ চাহিদার চেয়ে প্রায় ৩.৮৪ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতি দিন বেশি হবে। এই পরিমাণের অতিরিক্ততা সরবরাহের ভারসাম্যকে আরও কঠিন করে তুলবে এবং দামকে নিচের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হওয়া শান্তি আলোচনা বাজারে অতিরিক্ত প্রভাব ফেলছে। উভয় নেতার মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি তেল চাহিদার পুনরুদ্ধার এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে দামকে সমর্থন করতে পারে, তবে এখনও তা নিশ্চিত নয়।

বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এই দুইটি প্রধান বিষয়—সরবরাহ অতিরিক্ততা এবং ইউক্রেন শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা—কে সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যদি শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে ইউক্রেনের পুনর্গঠন এবং ইউরোপীয় চাহিদা পুনরুদ্ধার তেলের চাহিদা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, সরবরাহের অতিরিক্ততা অব্যাহত থাকলে দাম নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, তেল বাজারে অস্থিরতা কমাতে উত্পাদন হ্রাস, স্টকপিল কমানো এবং চাহিদা বৃদ্ধির জন্য নীতি সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। তাছাড়া, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎসের দ্রুত বিকাশও দীর্ঘমেয়াদে তেল চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, বর্তমান তেল দামের পতন সরবরাহের অতিরিক্ততা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সমন্বয় ফল। আগামী মাসে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের সমাধান এবং তেল উৎপাদনের সমন্বয় বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। বিনিয়োগকারী ও নীতি নির্ধারকদের জন্য এই দুইটি দিকের পরিবর্তন ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করা জরুরি।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments