অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ট্র্যাভিস হেড, যিনি সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার নতুন খোলার সঙ্গী জেক ওয়েদারাল্ডের প্রথম কয়েকটি ম্যাচের কঠিন পারফরম্যান্সের পর তাকে দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন। হেডের মন্তব্য মিডিয়ার সামনে মেলবোর্নে প্রকাশিত হয়, যখন অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ টেস্টে চার উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত হয়।
ওয়েদারাল্ডের টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয় পার্থের প্রথম টেস্টে, যেখানে অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়। ডেভিড ওয়ার্নারের অবসর পর দুই বছর পার হয়ে, দলের শীর্ষে শূন্যতা পূরণের জন্য একাধিক খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করা হয়, এবং ওয়েদারাল্ড সর্বশেষে এই দায়িত্বে নামেন।
এ পর্যন্ত তিনি আটটি ইনিংসে মোট ১৪৬ রান সংগ্রহ করেছেন, যার গড় ২০.৮৫। এই রানগুলোর প্রায় অর্ধেকই ব্রিসবেনের দ্বিতীয় টেস্টে তিনি তৈরি করা ৭২ রানের মাধ্যমে এসেছে। তার পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা না থাকলেও কিছু মুহূর্তে আক্রমণাত্মক শৈলীর ঝলক দেখা গেছে।
ম্যাট রেনশো এবং স্যাম কনস্টাসের মতো অন্যান্য উন্মুক্ত ব্যাটসম্যানদের প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েদারাল্ডকে সিডনি টেস্টে বড় স্কোর করতে হবে, যাতে তার টেস্ট ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত হয়। দলীয় ব্যবস্থাপনা এখন তার পারফরম্যান্সের উপর নির্ভরশীল, কারণ শীর্ষে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হেড আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিনতা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিচের অবস্থা চ্যালেঞ্জিং হয়েছে, যা দলীয় পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করেছে। তবে তিনি ওয়েদারাল্ডের ক্ষমতা নিয়ে আশাবাদী, বলছেন তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার জন্য যথেষ্ট দক্ষ এবং প্রথম চারটি টেস্টে তিনি বেশ কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত দেখিয়েছেন।
ওয়েদারাল্ডের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য ব্যাটসম্যানও সমালোচনার মুখে। ক্যামেরন গ্রিন এবং মার্নাস লাবুশ্যানে সাম্প্রতিক টেস্টে প্রত্যাশিত রান সংগ্রহ করতে পারেননি, ফলে দলের মোট ব্যাটিং শক্তি প্রশ্নের মুখে। এই পরিস্থিতি দলের কৌশলগত পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
হেড নিজে দ্বিতীয় ইনিংসে উসমান খাওয়াজার ব্যাক স্প্যাজমের কারণে খোলার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এরপর থেকে শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখেন। তিনি দুইটি শতক তৈরি করে নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করেন, যা তাকে সিরিজের শীর্ষ ব্যাটসম্যানের মর্যাদা দেয়।
হেডের মতে, তিনি সিরিজের পুরো সময় শোল্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে দেখছেন এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ সময়ের বিশ্লেষণ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, শীর্ষে ব্যাটিং করার সময় তিনি আত্মবিশ্বাসী বোধ করছেন এবং নিজের ফর্মে সন্তুষ্ট।
সিডনি টেস্ট, যা এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে, অস্ট্রেলিয়ার শেষ অ্যাশেস ম্যাচ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে ওয়েদারাল্ডের পারফরম্যান্স দলকে তার টেস্ট ক্যারিয়ার বাড়িয়ে দিতে পারে, অথবা তাকে দলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সংকেত দিতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী টেস্ট সিরিজের সূচি এখনো দূরে, কারণ তারা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অন্য কোনো টেস্টে অংশ নেবে না, যখন বাংলাদেশকে স্বাগত জানাবে। এই দীর্ঘ বিরতি দলের জন্য পুনর্গঠন এবং নতুন কৌশল গড়ে তোলার সুযোগ দেবে।
সারসংক্ষেপে, ট্র্যাভিস হেডের সমর্থন ওয়েদারাল্ডের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলবে, তবে শেষ টেস্টে তার পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে কতদিন থাকবে। দলটি এখনো শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সে নির্ভরশীল, এবং আসন্ন ম্যাচগুলোই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তি হবে।



