মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি) টেস্টের প্রথম দুই দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের আর্থিক ক্ষতি প্রায় এক কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারে পৌঁছেছে। গ্রীষ্মের তীব্র তাপের পূর্বাভাসে কিউরেটর ম্যাট পেজ সাধারণ ৭ মিমি ঘাসের বদলে ১০ মিমি ঘাস রাখেন, ফলে অতিরিক্ত তিন মিমি ঘাসের প্রভাব টেস্টের সময়সূচি ও আয় দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বক্সিং ডে টেস্টের দুই দিনের সমাপ্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র বিতর্ক গড়ে উঠেছে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস উল্লেখ করেন, এমন পিচকে “নরক” বলা হতো, আর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ বলছেন পেসারদের জন্য সহায়তা অতিরিক্ত ছিল। পিচে মুভমেন্ট ও বাউন্সের মাত্রা বাড়লেও ব্যাটসম্যানদের মুখ্য সমস্যার স্থান অন্যদিকে ছিল, কারণ বলের মুভমেন্টে অনিয়মিততা দেখা গিয়েছিল—কখনো বেশি, কখনো কম, কখনো না।
ম্যাচের আর্থিক প্রভাবের মূল কারণ ছিল টিকিট বিক্রির রিফান্ড এবং সম্প্রচার ও স্পন্সরশিপের আয় হ্রাস। প্রথম দুই দিনে রেকর্ড সংখ্যক দর্শক উপস্থিত থাকলেও, তৃতীয় দিনের জন্য অগ্রিম বিক্রি করা ৯০,০০০ের বেশি টিকিটের মূল্য ফেরত দিতে হয়েছিল। চতুর্থ দিনের টিকিটও পূর্বেই বিক্রি হলেও ব্যবহার হয়নি, ফলে টিকিট বিক্রয় থেকে প্রত্যাশিত আয় সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ উল্লেখ করেন, এই ধরনের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে ঘুমাতে পারছেন না। তিনি জানান, টেস্টের অল্প সময়ে শেষ হওয়ায় সম্প্রচার চুক্তি ও স্পন্সরদের থেকে প্রাপ্ত আয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কমে গেছে, যা সংস্থার বাজেটের ওপর বড় ধাক্কা।
ম্যাট পেজ নিজেও এই পরিস্থিতিতে বিস্মিত হয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রথম দিনে একদিনে ২০টি উইকেট নেমে যাওয়ায় তিনি সম্পূর্ণভাবে হতভম্ব হয়ে গেছেন এবং এ ধরনের টেস্টের সঙ্গে আর কখনো যুক্ত হতে চান না। পেজ আরও যোগ করেন, প্রতিটি সিজনের পিচের বৈশিষ্ট্য কিছুটা ভিন্ন, তবে এইবারের পার্থক্য বিশেষভাবে বড় ছিল।
বক্সিং ডে টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়া বড় মুনাফার আশা করেছিল, তবে দুই দিনের সমাপ্তি ফলে প্রত্যাশিত আয় সম্পূর্ণই হারিয়ে যায়। পার্থের প্রথম টেস্টে দুই দিনে শেষ হওয়ার পর প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশিত হয়েছিল; মেলবোর্নে একই পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি হওয়ায় মোট ক্ষতি এক কোটি ডলারের কাছাকাছি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড টেস্টের পিচ প্রস্তুতি ও টিকিট বিক্রয় নীতি পুনর্বিবেচনা করার সংকেত দিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন আর্থিক ঝুঁকি কমাতে পিচের ঘাসের উচ্চতা ও মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মেলবোর্নের টেস্টের শেষের দিকে, দর্শকদের প্রত্যাশা এবং টিকিটের বিক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তবে সংস্থার প্রধান লক্ষ্য হবে আর্থিক ক্ষতি সীমিত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মান বজায় রাখা।



