বিএনপি কার্যকরী চেয়ারম্যান তারিক রহমানের দেশে ফিরে আসা এবং তার পিতার সমাধিতে প্রার্থনা করা, দলকে ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নতুন উদ্যম দিয়েছে। ১৯ বছর পর তারিকের এই সফর দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তারিকের ফিরে আসা নির্বাচনের পূর্বে দলীয় অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি দূর করেছে বলে পার্টির উচ্চপদস্থ নেতারা জানান। তারিকের উপস্থিতি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং পার্টির প্রচার কার্যক্রমে ত্বরান্বিত করে তুলেছে।
বিএনপির যৌথ সচিব জেনারেল সৈয়দ এমরান সেলাহ প্রিন্সের মতে, তারিকের ফিরে আসা দলীয় কর্মীদের মধ্যে এক নতুন উদ্যম সঞ্চার করেছে। নেতারা এখন একত্রে কাজ করছেন এবং পার্টির প্রচারকে ত্বরান্বিত করার জন্য নতুন পরিকল্পনা গড়ে তুলছেন।
এছাড়া, স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উল্লেখ করেন, তারিকের দেশে ফিরে আসা পার্টির সদস্য ও সাধারণ জনগণের মধ্যে আগ্রহ ও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এই উচ্ছ্বাসকে পার্টি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ব্যবহার করতে চায়।
দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, পার্টি নেতারা এবং কর্মীরা এখন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে চায় যা নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে অথবা পার্টির চিত্রকে নষ্ট করতে পারে। তারিকের উপস্থিতি এই সতর্কতাকে আরও দৃঢ় করেছে।
বিএনপি এখনো প্রতিপক্ষের সুযোগ নিতে না দেওয়ার জন্য নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি সৃষ্টি হলে বিরোধী দলকে তা ব্যবহার করার সুযোগ হতে পারে, তাই এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পার্টি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
এই মুহূর্তকে পার্টি জনমতকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে। গ্রাসরুটে সমাবেশ, জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপ এবং পার্টির নীতি প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করা পরিকল্পনার অংশ।
সোর্স অনুযায়ী, আসন্ন দিনগুলোতে পার্টির মিটিং, আউটরিচ প্রোগ্রাম এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় কার্যক্রম বাড়বে, বিশেষ করে গ্রাম ও পাড়া স্তরে। এই উদ্যোগগুলো ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকে লক্ষ্য করে।
বিএনপির প্রধান কর্মী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও তার নিজ জেলা থাকুরগাঁয়ে সফর করবেন, যেখানে তিনি স্থানীয় সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করবেন।
স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্যরাও নিজেদের নিজ নিজ জেলায় গিয়ে প্রার্থীর নামের জন্য প্রার্থনা পত্র জমা দেবেন, যা পার্টির প্রার্থী তালিকায় স্থান নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি এই সময়কে ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের দিকে জনমতকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। দলীয় নেতৃত্বের মতে, তারিকের ফিরে আসা এবং তার দ্বারা সৃষ্ট উদ্যম ভোটারদের মধ্যে পার্টির প্রতি আস্থা বাড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, তারিক রহমানের দেশে ফিরে আসা বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দল এখন গ্রাসরুটে সক্রিয়তা বাড়িয়ে, নেতৃত্বের সমন্বয় জোরদার করে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সচেষ্ট, যাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পার্টি তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।



