পাপুয়া নিউ গিনিয়ার লাে শহরের পূর্ব উপকূলে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে শনিবার একটি ক্রুজ জাহাজ সমুদ্রতলে আটকে যায়। জাহাজের নাম কোরাল অ্যাডভেঞ্চারার, যা সাম্প্রতিককালে ৮০ বছর বয়সী এক যাত্রীকে দ্বীপে ফেলে যাওয়ার পর প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল।
জাহাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে কোনো জরুরি সংকেত পাঠানো হয়নি এবং সকল যাত্রী ও ক্রু সদস্য নিরাপদে রওনা হয়েছে। প্রাথমিক পরিদর্শনে জাহাজের হাল কোনো দৃশ্যমান ক্ষতি দেখায়নি, তবে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা রবিবার করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ান মেরিটাইম সেফটি অথরিটি (AMSA) একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, তারা কোরাল অ্যাডভেঞ্চারার থেকে কোনো ডিস্ট্রেস কল পায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে পাপুয়া নিউ গিনিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
এই যাত্রা মোট ১২ দিনের ছিল, যা ৩০ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঘটনাকালে জাহাজে ৮০ জন যাত্রী এবং ৪৩ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। বর্তমান যাত্রা চালু রাখার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
কোরাল অ্যাডভেঞ্চারার বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান মেরিটাইম সেফটি অথরিটি এবং কুইন্সল্যান্ড পুলিশ যৌথভাবে তদন্তের অধীনে রয়েছে। তদন্তের মূল বিষয় হল ২৬ অক্টোবর লিজার্ড দ্বীপে ৮০ বছর বয়সী সুজান রিসের মৃত্যু, যাকে জাহাজ ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
সুজান রিস লিজার্ড দ্বীপে হাইকিং করার সময় দলের থেকে আলাদা হয়ে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন। জাহাজ তার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করে কয়েক ঘণ্টা পরে ফিরে আসে, তবে রিসের সন্ধান না পেয়ে একটি বৃহৎ অনুসন্ধান অভিযান চালানো হয়। পরের দিন তার দেহ পাওয়া যায়।
রিসের মৃত্যুর পর জাহাজটি মোট ৬০ দিনের পরিকল্পিত যাত্রার মাত্র দুই দিন পার করেছিল। বাকি যাত্রা বাতিল করা হয় এবং সকল যাত্রীর কাছে পূর্ণ রিফান্ড প্রদান করা হয়।
কোরাল এক্সপেডিশনসের সিইও মার্ক ফিফিল্ড ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে এবং রিসের পরিবারকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোম্পানি এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটাতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বর্তমানে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো আদালতিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে প্রমাণ সংগ্রহ এবং সাক্ষী বিবৃতি গ্রহণের কাজ চলমান। ফলাফলের ভিত্তিতে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ বা শাস্তি নির্ধারিত হবে।
পাপুয়া নিউ গিনিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষও ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। জাহাজের মালিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, কোরাল অ্যাডভেঞ্চারার সমুদ্রতলে আটকে যাওয়া এবং পূর্বে ঘটে যাওয়া যাত্রী মৃত্যুর ঘটনা দুটোই আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও যাত্রী সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



